সুন্দরবনে গুলিতে বনজীবী নিহত, পাল্টাপাল্টি মামলা
স ন দরবন গ ল ত বনজ – খুলনার কয়রা উপজেলার পশ্চিম সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে আমিনুর রহমান (৪৫) নামে এক বনজীবী গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার প্রতিবেদনে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তার পরিবার বলছেন যে বন বিভাগের সদস্যদের গুলি হলে তার মৃত্যু ঘটেছে।
নিহতের বাড়ি ও মামলার আবেদন
নিহত আমিনুর রহমানের বাসা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সোরা গ্রামে। গত বুধবার তার ভাতিজা অলিউল্লাহ বাদী হয়ে কয়রা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি হয়েছেন ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মোবারক হোসেন এবং পশ্চিম বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক শামীম রেজা সহ অজ্ঞাতনামা নোংরা নৌকার দল।
অভিযোগ অনুযায়ী গত ১৮ মে সকালে পাতকোষ্টা এলাকার বেশো খালে মাছ ধরার সময় বন বিভাগের টহল দল আমিনুরের কাছে টাকা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় বনরক্ষীরা তাকে গুলি করে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।
‘আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। এলাকাটি অভয়ারণ্য হওয়ায় সেখানে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ। সেখানে আমাদের স্মার্ট টহল দল দায়িত্ব পালন করছিল।’ বলেন ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মোবারক হোসেন।
বনরক্ষীদের ওপর হামলার অভিযোগে বন বিভাগ তাদের প্রতি পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। শরবতখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোক্তাদির রহমান বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।
বিভাগীয় কর্মকর্তার বিবরণ
পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এ জেড এম হাছানুর রহমান জানান, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং বনরক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়ে হামলার ঘটনার প্রতি তদন্ত করার জন্য দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর একটিতে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং অন্যটিতে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি রয়েছেন।
সমন্বয়কের মতবাদ
সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক শুভ্র শচীন বলেন, ‘বনরক্ষক ও বনজীবীদের সম্পর্ক যদি বুলেট ও ব্যারিকেডের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, তবে তা কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয়। এই সংঘাত বন্ধে পারস্পরিক বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করা জরুরি।’