সাহসী সংবাদ : স্মৃতিতে অম্লান
স হস স ব দ – ১৯৬২ সালে সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খানের স্বেচ্ছাচারী শাসনের প্রতি পূর্ব বাংলার ছাত্রসমাজ তেজোদৃপ্ত আন্দোলন চালায়। এ আন্দোলন তখত-ই-তাউস কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ছাত্রদের ওপর হামলা এবং গুলিবর্ষণ সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মমত্ববোধ বাচ্চাদের প্রতি দেশবাসীকে জাগিয়ে তুলেছিল। এ আন্দোলন জনগণের কাছে পৌঁছেছিল।
আমি তখন দৈনিক ‘আজাদ’ পত্রিকার কর্মী ছিলাম। বাড়ি ফিরতে যাওয়ার সময় পলাশী ব্যারাকের কোণে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পথে কয়েকজন আইজি ও পুলিশ আমার রিকশাটার ওপর হামলা করে। গ্রেফতার হই ও লালবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ ও আইবিগুলো আমার নামে হুলিয়া হয়েছে জানতে পারি। পরদিন লালবাগ থানার ইন্টারোগেশন সেন্টারে ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ চলছিল সারা রাত। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক ওয়াটের মধ্যে। রাত কেটেছে মানসিক নিপীড়নে। সকালে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা হয়েছিল। এমন সময় দেখি আমার শিক্ষিকা স্ত্রী তেরো দিনের বাচ্চাকে নিয়ে সেলের সামনে হাজির। এ আমাদের প্রথম সন্তান। জন্মেছিল ৩০ জানুয়ারি। সেদিন শহীদ সোহরাওয়ার্দীও আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে গ্রেফতার হয়েছিলেন।
লালবাগ থানায় থাকতে কয়েকটি দৈনিক সংবাদপত্র পাই। তার মধ্যে দৈনিক সংবাদও ছিল। আমাকে প্রতিদিন পাঠ-কর্মটি সম্পন্ন করা হতো, যেহেতু আমি সংবাদিক এবং টগবগে তরুণ। নিউজ হেডলাইন পড়ি এবং যেসব মুরব্বির নাম করলাম ওরা শুনতেন। যে সংবাদ বিস্তারিত পড়ার প্রয়োজন হতো সেটা অবশ্য পড়া হতো।
একদিন হলো মজা। সেদিন আলজেরীয় মুক্তি সংগ্রামীদের ফরাসি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের বিজয় হয়েছে। আলজেরিয়া মুক্ত। দৈনিক সংবাদে প্রথম পাতায় ‘তাহিয়া আল জেজাইর’ শিরোনামে একটি ডবল কলাম সম্পাদকীয় লিখেছেন সম্পাদক জহুর হোসেন চৌধুরী। কী অসাধারণ একটি ফ্রন্টপেজ এডিটোরিয়াল! যাকে আমার কাছে একমাত্র তুলনীয় বলে মনে হয়েছিল ১৯৫৩ সালে কমরেড স্তালিনের মৃত্যুতে দৈনিক ‘সত্যযুগ’ পত্রিকায় সত্যেন্দ্র নারায়ণ মজুমদারের লেখা সম্পাদকীয়ের সঙ্গে।
মানিক ভাই আমায় পড়তে বললেন। আমি পড়ছি। সম্পাদকীয়র মাঝখানটা পেরিয়ে কিছুদূর এগুতেই একটা জায়গায় লেখা— ‘…হারামজাদা সালান, কুত্তার বাচ্চা… শুয়ো