শ্রীমঙ্গলে নারীদের স্বাধীনতা খালেদ পুলিশের জালে
শ র মঙ গল ন র দ – সাম্প্রতিক সময়ে মোটরসাইকেল চালিত ছিনতাইকারীদের চক্রের দৌরাত্ম্যে শ্রীমঙ্গলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। শহরে প্রায়শই নারী পথচারীদের লক্ষ্য করে সংঘবদ্ধভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ কারণে সন্ধ্যার পর অনেক মহিলা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া বন্ধ করে দেন।
গত ৩ মে রূপসপুর এলাকায় শিক্ষিকা অর্পিতা রায় স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হন। ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তার গলায় পৌণে এক ভরি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। সমান দিনে মাস্টারপাড়াতে জয়া সাহা আহত হন। তিনি প্রায় স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার সময় ক্ষতিগ্রস্ত হন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট বলেন, প্রথমে ঘটনাগুলো ক্লু বিহীন ছিল। পরে বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। প্রায় ২৫টি ফুটেজে সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল ও ছিনতাইকারীদের গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চক্রটি শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়ক থেকে কমলগঞ্জ, শমশেরনগর হয়ে সিলেট পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে। অবশেষে গত ১৮ মে ভোররাতে জালালাবাদ থানার আখালিয়া গেট এলাকার বাসায় মূলহোতা খালেদ আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলার গৌরাবাড়ী এলাকার বাশির মিয়ার ছেলে।
গ্রেপ্তারের সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, হেলমেট, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, পার্স ও ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করলেও অব্যাহত টহল ও কঠোর নজরদারি দাবি জানিয়েছেন।
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘ছিনতাইকারীরা বাইরের এলাকা থেকে এসে দ্রুত অপরাধ সংঘটিত করে পালিয়ে যেত। প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার সহায়তায় চক্রটির মূলহোতাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।’
মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা বলেন, ‘বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’