বেইলি রোড ট্র্যাজেডি: আদালতে নাটকীয় পরিস্থিতি গড়ে তুলেছে আসামিরা
ব ইল র ড ট র য – রাজধানী ঢাকার বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে ঘটে যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জন মৃত্যুর ঘটনা, তার প্রতি আদালতে আইনি বিতর্কের পরিচয় দিয়েছে। মামলার দুই আসামি রমজানুল হক নিহাদ এবং আদিব আলমের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য বিচারকের আদালতে তুমুল যুক্তি-তর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার অন্যতম আসামি রমজানুল হক নিহাদ আত্মসমর্পণ করেন কিন্তু বাইল আবেদন প্রত্যাহার করেন। বিপরীতে আদিব আলম জামিনে আবেদন করেন এবং তার সাথে অ্যাডভোকেট হাদিউজ্জামান বলেন, “রেস্টুরেন্টের মালিক আমি নন। তার নামে মোহাম্মদপুর এবং তেজগাঁওতে দুটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। সুপ্রিয় আইনজীবী আমি স্বেচ্ছায় বাইল আবেদন করেছি।”
“ওই ভবনে হাক্কা ঢাকা রেস্টুরেন্ট ছিল, তার মালিক এ আসামি নন। তার নামে তেজগাঁও এবং মোহাম্মদপুরে দুটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। স্বেচ্ছায় বাইল আবেদন করেছি। আবেদন মঞ্জুর হলে পলাতক হবো না।”
অন্যদিকে নিহাদের পক্ষে আইনজীবী আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া যুক্তি দেখান, “তিনি ডেভেলপার। ২০১৫ সালে ভবনটি হ্যান্ডওভার করেন। গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের ক্ষেত্রে মালিকদের সতর্কতামূলক নোটিস দেন। ঘটনার সময় তিনি মালয়েশিয়ায় ছিলেন।”
আদালতের আইনজীবী বিচারক হাসান শাহাদাত নিহাদ ও আদিবের মধ্যে তীব্র আইনি সংঘাত ঘটে। প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, “আগুনের সময় কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে কেউ বিল না দিয়ে পালিয়ে যেতে পারে। ধোঁয়ায় আটকা পড়ে অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন।”
প্রতিবাদে আসামিপক্ষ অন্যদের বাইল আবেদনের কথা উল্লেখ করে বলেন, “যারা বাইল পেয়েছেন, তারা জেলে সময় খরচ করে তা পেয়েছেন।”
শেষ পর্যায়ে বিচারক আদিবের বাইল আবেদন মঞ্জুর করেন কিন্তু নিহাদের বাইল আবেদনের আদেশ অপেক্ষমাণ রাখা হয়। বিগত ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে ঘটে যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২০ জন পুরুষ, ১৮ জন নারী এবং ৮ জন শিশু সহ মোট ৪৬ জন মৃত্যুবরণ করেন।