বাবা-মাকে ভরণপোষণ না দিলে ছেলের কী শাস্তি?
ব ব ম ক ভরণপ ষণ ন – যখন পিতা-মাতার বয়স বৃদ্ধ হয়ে যায়, তখন তাদের সন্তানদের নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে যার আইনগত আওতাও আছে। এই বিষয়ে দেশে আইন করা হয়েছে যে কোনো সন্তান তার পিতা-মাতার চারণ করতে বাধ্য। সম্প্রতি এক সম্ভবত মায়ের পচন ধরা লাশ উদ্ধারের ঘটনা আলোচনার সূত্রে আইনটি আবারও তার গুরুত্ব প্রকাশ করেছে।
নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব
আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী, প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে তাদের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। যদি কোনো সন্তান মা-বাবাকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়, তবে তার স্ত্রী, ছেলেমেয়ে বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় সেই অপরাধে দায়ী হতে পারে।
আইনের ৫(১) ধারা অনুযায়ী, কোনো সন্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা করতে হবে। এটি অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের প্রস্তাব রয়েছে।
আইন অনুসারে সন্তানদের বাবা-মাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো স্থানে রাখা যায় না। তাদের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা ও সময় কাটানো সবার দায়িত্ব। যখন সন্তান ভরণপোষণ করতে অক্ষম হয়, তখন সরকারি বা বেসরকারি পরিচর্যাকেন্দ্রে রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
বিধিমালার আবিষ্কার
২০১৩ সালে আইনটি প্রণীত হলেও বর্তমানে তার প্রয়োগ খুবই কম। এর পরিপ্রেক্ষিতে সমাজকল্পাণ মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালে পিতা-মাতার ভরণপোষণ বিধিমালা তৈরি করেছে। এটি স্বাস্থ্যসেবা, বসবাস ও আলাদা স্থানে পাঠানো থেকে বিরতি দেওয়া হয়েছে।
বিধিমালায় কোনো সন্তানের পিতা-মাতার সহায়তার জন্য একটি ভরণপোষণ তহবিল গঠনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি অনুদান এবং বাইরের সহায়তা দ্বারা এই তহবিল প্রতিষ্ঠিত হবে। আইনটি কী ভাবে প্রয়োগ হয় তা জানতে কৌতুহলী অনেকে আছে।