বাগেরহাটে কুমিরে টেনে নেওয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ব গ রহ ট ক ম র – বাগেরহাটের হযরত খান জাহান আলী মাজারের দিঘি থেকে নিখোঁজ শিশু ফাতেমার মৃতদেহ আবিষ্কৃত হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে পূর্ব পাশে তার দেহ ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কাছে পৌঁছে। ঘটনাটি সোমবার রাতে ঘটেছিল যখন মাজারের মহিলা ঘাটে গোসলের জন্য নামার সময় শিশুটি কুমিরের হাত ধরে নিচে টেনে নেয়।
নিহত ফাতেমা হল মাজার এলাকায় বাসা ভুক্ত একজন মানসিক প্রতিবন্ধী মহিলার পুত্রী। তার স্থায়ী ঠিকানা বা বাবা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, “রাতে কুমির অধ্যুষিত দিঘিতে উদ্ধার অভিযান চালানো ছিল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেছি।”
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের দ্বারা মঙ্গলবার ভোরে দিঘির পূর্ব পাশে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মাজারের খাদেম ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ জানান, গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে শিশুটির মা তাকে মহিলা ঘাটে গোসলের জন্য নামান। এ সময় হঠাৎ একটি কুমির শিশুটিকে কামড়ে ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। মেয়ের চিৎকার শুনে মা ও স্থানীয় মানুষ উদ্ধারের চেষ্টা করে কিন্তু ব্যর্থ হন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ঘটনার পর বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ এবং জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রাতভর অভিযানের পর মঙ্গলবার ভোর ৫ টার দিকে শিশুটির মৃতদেহ ভেসে ওঠে।
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ঘোষণা করেন যে মাজার এবং দিঘি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্ষিপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মো. বাতেন জানান যে মাজার ও দিঘি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দুর্ঘটনাপ্রবণ কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।