‘ফরওয়ার্ডেড মেসেজের’ ভিড়ে হারাচ্ছে ঈদের আন্তরিকতা
ফরওয় র ড ড ম স জ – ঈদের দিন একটি সাধারণ মেসেজ পাঠানো সহজ হয়েছে বলে মনে হয়। কিন্তু সেই সুবিধার পেছনে সত্যিকারের ভালোবাসা এবং আন্তরিকতা পড়ে যাচ্ছে। অনেকের মনে হয় যে ফরওয়ার্ড করা মেসেজগুলো ব্যক্তিগত সম্পর্কে সুন্দর হাসি আনে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক মন্তব্য করেছিলেন যে ঈদে তাঁর ফোনের যোগাযোগ তালিকা থেকে বেশিরভাগ মানুষকে একই মেসেজ পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি বার্তার মাঝখানে ছোট ছোট ‘ফরওয়ার্ডেড’ লেখা দেখে সেই মানুষগুলো অনুভব করে যে তিনি কেবল একটি তালিকার অংশ।
“ওই মেসেজগুলো দেখে মন ভরে না আর। কাউকে কোনো সম্মান দেওয়ার চেষ্টাই মনে হয় না। যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা মিটানো।”
প্রযুক্তির যুগে বার্তা প্রেরণের উপায় বেশি হয়েছে। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বারবার ফরওয়ার্ড করা মেসেজ মানুষের অবচেতন মনে অবমূল্যায়ন করে। যখন কেউ বুঝতে পারে যে তিনি কেবল একটি সাধারণ গ্রুপের অংশ, তখন বিশেষত্বের অনুভূতি ক্ষীণ হয়ে যায়।
আগের দিন বাবা কল করেছিলেন খালেদ হোসেনকে। তাঁর কণ্ঠস্বরে ছিল ভীষণ বিষণ্ণতা, “তুই কি আর আমাদের কথা ভুলেই গেছিস রে বাবা? ঈদের সকালেও তোর পক্ষে একটা ফোন করা হলো না?” খালেদ মনে করেন যে তিনি বাবা-মাকে ভুলে গেছেন বর্তমান যুগে বারবার ফরওয়ার্ড করা মেসেজের কারণে।
মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, কণ্ঠস্বর মানুষের মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন হরমোন প্রবাহিত করে। এই হরমোন পারস্পরিক বিশ্বাস বাড়ায় এবং সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধি করে। কিন্তু কপি-পেস্ট করা টেক্সট মেসেজ এতটাই শূন্য বানানো যে এতে এই হরমোন নিঃসরণের ক্ষমতা নেই বলে মনে হয়।
সামাজিক মানুষের সঙ্গে যুক্ত কিন্তু দিনশেষে অবিশ্বাস্য
ডিজিটাল মার্কেটিং কোম্পানি ‘উইআরসোশ্যাল’ বলছে যে বাংলাদেশে প্রতি ঈদে মোবাইল মেসেজিং অ্যাপে গড়ে ১৫ কোটির বেশি শুভেচ্ছা বার্তা আদান-প্রদান হয়। তার মধ্যে ৯০ শতাংশ মেসেজ ফরওয়ার্ড করা। মাত্র ৩ শতাংশ মানুষ প্রিয় জনের জন্য ব্যক্তিগত মেসেজ লিখেন।
বেসরকারি অফিসের চাকরিজীবী রানা হাসান বলেন, “আমি প্রতিবছর চেনা ১০-১২ জন ঘনিষ্ঠ বান্ধবীকে একটি ছোট মেসেজ পাঠাই। তাদের নাম দিয়ে শুরু করে লিখি, ‘আমাদের পুরনো সেই ঈদের স্মৃতি মনে পড়ে?’ আমি চাই তারা অনুভব করে যে আমি সত্যিকারে তাদের জন্য চিন্তা করেছি।”
যোগাযোগের মূল্য কমেছে কিন্তু সম্পর্কের মূল্য বেড়েছে
ঈদের কোলাকুলি প্রকৃত আনন্দ হলো সম্পর্কের টানাপোড়েন ভুলে ঘনিষ্ঠ হওয়া। বন্ধু, আত্�