নজরুলকে কি থামিয়ে দিতে চেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ?
নজর লক ক থ ম য় দ – বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের মধ্যে প্রসঙ্গ সৃষ্টি করেছে সামাজিক মাধ্যমে একটি নতুন বিতর্ক। কিছু বিশ্লেষক বলেন রবীন্দ্রনাথ নজরুলকে বাধা দিতে চেয়েছিলেন। তবে সত্যিকার তথ্য নির্দেশ করছে এটি একটি ভুল ধারণা।
গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সমান্তরাল পথ
বিশেষজ্ঞ জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, রবীন্দ্রনাথ নজরুলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করতেন। তাঁকে বাংলা সাহিত্যের একটি নতুন প্রতিভার মাধ্যমে দেখতেন। নজরুল যখন বাংলাপিডিয়া সাহিত্যে ঝড় তোলেন, রবীন্দ্রনাথ তখন তাঁর সাহিত্যিক বৃদ্ধির চরম পর্যায়ে ছিলেন।
১৯২৩ সালে নজরুল ব্রিটিশ সরকারের অভিযোগে হুগলি জেলে বন্দি হন। সেই সময় রবীন্দ্রনাথ তাঁর নতুন গীতিনাট্য ‘বসন্ত’ কবিতা নজরুলকে উৎসর্গ করেন। বয়স্ক কবির প্রতি তরুণ কবিকে বই দান করা ছিল একটি সাহসী পদক্ষেপ। নজরুলের বয়স ছিল মাত্র ২৪ বছর।
“অনশন ভাঙো, আমাদের সাহিত্যে তোমার প্রয়োজন।”
রবীন্দ্রনাথ এমন একটি টেলিগ্রাম পাঠান হয় নজরুলের কাছে। কিন্তু টেলিগ্রামটি নজরুলের হাতে পৌঁছে না। ইতিহাস তথ্য দেখায় রবীন্দ্রনাথ নজরুলকে সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষ হিসেবে মনে করতেন না, তিনি তাঁর প্রতিভার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করতেন। তিনি নজরুলের ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার জন্য আশীর্বাণী লিখেছিলেন: “কাজী নজরুল ইসলাম কল্যাণীয়েষু, আয় চলে আয়রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ আগুনের সেতু, দুর্দিনের এই দুর্গশিরে উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন”। এটি সত্যিকার সম্মানের চিহ্ন।
রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর নজরুল শোকগাথা ‘রবিহারা’ লিখেছিলেন। তিনি রবীন্দ্রনাথকে ‘প্রাণের গুরু’ সম্বোধন করেন। পিতার মতো এক কবির প্রতি শিষ্যের ভালোবাসা সেখানে প্রকাশ পেয়েছিল, দ্বেষ বা হিংসা নয়।
ভাষাতাত্ত্বিক বিতর্ক এবং পুনরায় মিলন
১৯২৭ সালের ডিসেম্বরে রবীন্দ্র পরিষদে রবীন্দ্রনাথের ভাষণ বিশ্লেষণে একটি আলোচনা সৃষ্টি হয়। তিনি তরুণ কবিদের ‘খুন’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন বলে কম্পিত হন। নজরুল তার কবিতা ‘কান্ডারি হুশিয়ার’ (১৯২৬) মাধ্যমে তার প্রতিক্রিয়া দেন। এখানে তিনি হিন্দু উচ্চবর্গীয়