ত্যাগের ঈদ, না প্রদর্শনের?
ত য গ র ঈদ ন প – মুসলমানদের জন্য কোরবানির ঈদ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব হিসেবে নয়, আত্মত্যাগ, সংযম ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের গভীর শিক্ষাও প্রতিফলিত করে। হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর বিশাল ত্যাগের স্মৃতি ধরে রেখে মুসলমানরা বছরের পর বছর এই উৎসবে অপরিহার্য গুণ তুলে ধরেছে। কিন্তু সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে এই ধর্মীয় অনুশীলন এমন একটি দিশাৎ বদলে গেছে যে কোরবানির সাথে মানুষের আত্মপ্রদর্শনের ভাবনা আমাদের মনে উঠেছে।
প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষের জীবনে এমন পরিবর্তন আনে যে ধর্মীয় অনুশীলনও সামাজিক স্বীকৃতি অর্জনের সাধনা হয়ে উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে কোরবানির ঈদ আসতে শুরু হয়েছে সে সময়ে গরুর ছবি, ভিডিও, লাইভ ও দামের আলোচনার সাথে। কেউ কেউ বড় গরু কিনে সামাজিক মঞ্চে স্বীকৃতি অর্জনের জন্য তার আকর্ষণ করতে চায়।
পূর্বে কোরবানির মূল গুরুত্ব ছিল সহমর্মিতা ও ভাগাভাগি করা। এখন পরিবারের উঠানে গরু আসত, শিশু হাসত, সবাই মিলে প্রস্তুতি নিত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে নিয়তি ও আত্মীয় স্বজনের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় হতো। আজ সেই প্রক্রিয়াটি কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেনাকিনা ও সামাজিক মর্যাদার প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রদর্শনের প্রভাব
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যখন গরুর ছবি ও ভিডিও ভেসে আসে, তখন ধর্মীয় অনুশীলন আর আত্মত্যাগ শিক্ষার সাথে সামাজিক প্রদর্শন মিশে গেছে। এই চাপের ফলে কেউ কেউ অর্থনৈতিক সংকট ছাড়া সামাজিক অবস্থান প্রমাণের জন্য ঋণ করে কোরবানি দেন। কারণ সামাজিক চোখে ছোট হয়ে যাওয়ার ভয় মানুষকে আপন কষ্ট আড়াল করতে বাধ্য করে।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না তাদের গোশত ও রক্ত; বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।”
অর্থাৎ কোরবানির প্রকৃত মূল্য নিহিত রয়েছে মানুষের নিয়ত ও আত্মিক চেতনার মধ্যে। তবে আধুনিক সমাজে কোরবানির ঈদ কখনো কখনো অতিরিক্ত সামাজিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অন্যের চোখে নিজের স্থান প্রমাণের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। কোরবানির ঈদ আমাদের মনে আনন্দ ভাগাভাগি করার বিষয়টি মনে আসছে। কিন্তু তার মধ্যে আত্মসম্মান রক্ষার জন্য কেউ কেউ স্বাভাবিক কষ্ট আড়াল করে রাখছেন।
আধুনিক পরিবেশে ধর্মীয় অনুভূতিও সম্পূর্ণ সামাজিক মঞ্চে পরিণ