টোল বন্ধের দাবিতে কুষ্টিয়ায় মহাসড়ক অবরোধ
ট ল বন ধ র দ ব – বুধবার (২০ মে) বিকেলে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমারখালী সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতুতে টোল বন্ধের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাটি সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় ঘটে।
অবরোধের প্রতিবাদে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গোলচত্বর এলাকায় সড়ক বন্ধ করে ছাত্র ও জনতা বিক্ষোভ করে। সড়কের ওপর টায়ার আগুন জ্বালানো হয়েছিল। ফলে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানজট দেখা দেয়। রাজস্ব হারিয়ে চরম অসুবিধার মুখে পড়েন যাত্রী ও চালকরা।
“শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে ঠিকাদারের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে মাইক ও ব্যানার ছিনিয়ে নিয়েছে।”
“জনগণের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা ছোট যানবাহন বাদ দিয়ে বৈধভাবে টোল তুলছি। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”
২০০৪ সালে গড়াই নদীর ওপর ৩৫ কোটি টাকার ব্যয়ে সেতুটি নির্মিত হয়। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর টোল আদায় বন্ধের দাবিতে টোল প্লাজায় আগুন দেওয়া হয়। পরে থেকে সরকার প্রায় ১৮ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে। সম্প্রতি ২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় সওজ নির্মিত সেতুটিতে টোল আদায়ের ইজারা দেয় ‘থ্রি স্টার এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ’ প্রতিষ্ঠানকে। সোমবার রাত থেকে সেতুতে টোল আদায় শুরু হয়।
অবরোধের কারণে যানজটে আটকে পড়া মাইক্রোবাস চালক বলেন, “ঘণ্টাব্যাপী আটকে আছি। টোল বন্ধের দাবি যৌক্তিক হতে পারে, কিন্তু সাধারণ মানুষকে এভাবে ভোগান্তিতে ফেলা ঠিক নয়।” বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রবিন আহমেদ জানান, ঈদ ও বুধবার হাটের দিন হওয়ায় মানুষের অসুবিধা বিবেচনা করে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন বলেন, টোল বন্ধের দাবিতে মহাসড়ক প্রায় দেড় ঘণ্টা বন্ধ ছিল। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে টোল আদায় করা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইউএনও-কে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।