News

জীবনযুদ্ধে অপরাজেয় মো. ইব্রাহিমের গল্প

জীবনযুদ্ধে অপরাজেয় মো. ইব্রাহিমের গল্প জ বনয দ ধ অপর জ য় - এলাকার প্রতিদিন সকালে একটি নির্দিষ্ট দৃশ্য বিদ্যমান। মসজিদে ফজর নামাজ শেষে মুসলমানরা একে একে বের

Desk News
Published May 27, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments

জীবনযুদ্ধে অপরাজেয় মো. ইব্রাহিমের গল্প

জ বনয দ ধ অপর জ য় – এলাকার প্রতিদিন সকালে একটি নির্দিষ্ট দৃশ্য বিদ্যমান। মসজিদে ফজর নামাজ শেষে মুসলমানরা একে একে বের হন। কেউ প্রাতঃপ্রস্থান করছেন, কেউ বাড়ি ফিরছেন, কেউ পুনর্গঠিত করছেন স্থানীয় কাজগুলি। তাদের মধ্যে একজন ব্যক্তি অতিরিক্ত তাড়া নিয়ে অবতরণ করেন, যার নাম মো. ইব্রাহিম। তার দায়িত্ববোধ ও নিষ্ঠার কারণে সকাল সকাল পত্রিকা বিক্রি করার কাজটি তিনি আজও আঁকড়ে ধরে আছেন।

পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল ফেরিঘাটে ইব্রাহিমের আয়ুষ্মান জীবনের অনেক বছর ধরে তিনি পত্রিকা বিক্রি করছেন। সময় সমাজের পরিবর্তন হয়েছে, মানুষের পড়ার আচরণও পরিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু সে যাচ্ছে না তাঁর অপরাজেয় দায়িত্ব। পত্রিকা বিক্রেতার পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি কোরআনের হাফেজ হিসেবে পরিচিত। শিশু বয়েসে মাদ্রাসায় হিফজ শেষ করার পর তিনি পারিবারিক অর্থনীতি অনুসারে পত্রিকা ব্যবসা শুরু করেন।

“আগে পত্রিকা ছিল মানুষের প্রধান মাধ্যম। সবাই নতুন কিছু জানার জন্য মুখিয়ে থাকত। এখন মানুষের চোখ মোবাইলে, কাগজের খবর পড়তে চায় না কেউ। আগে যেখানে দৈনিক হাজার কপি বিক্রি করতাম, এখন সেখানে ২০০ কপিও হয় না। তবুও কাজটা ছাড়িনি। জীবিকার জন্য ছোট কাজ বলে কিছু নেই। সততা আর দায়িত্ববোধ থাকলে যেকোনো কাজই সম্মানের।”

পত্রিকা বিক্রি করার পাশাপাশি তিনি বাকি সময় কোরআন তিলাওয়াত ও ধর্মীয় কাজে ব্যয় করেন। ঘোড়াশাল বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম তাঁর সাথে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, “শৈশব থেকেই দেখে আসছি হাফেজ মো. ইব্রাহিম পাঠকদের কাছে পত্রিকা পৌঁছে দিচ্ছেন। আমার প্রতিষ্ঠানেও প্রতিদিন সকাল হলেই তার দেওয়া পত্রিকা হাতে পাই।”

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন তাঁর প্রতি মানুষের প্রতি আলোকিত চরিত্র বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “তিনি একজন আলোকিত মানুষ। তার জীবন যেন এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত; কীভাবে দ্বীন ও দুনিয়ার মাঝে ভারসাম্য রাখা যায়।”

বাজারের পুরোনো ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম তাঁর সত্যিকার মানুষ হিসেবে সম্মান জানান। তিনি বলেন, “উনি শুধু একজন পত্রিকা বিক্রেতা নন, খুব ঈমানদার একজন মানুষ। যতটুকু আয় করেন, তাতেই সন্তুষ্ট থাকেন।”

ছাত্রজীবনে ইব্রাহিমের সহযোগী হিসেবে কাজ করা মো. ফারুকুল ইসলাম তাঁর আচরণের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “তাঁর ভালো ব্যবহার কারণে আমি মনে করি তিনি এ কাজে অবতরণ করেছেন যে মানুষের জন্য অপরাজেয়।”

Leave a Comment