কি আছে চার্জশিটে: তোফাজ্জল হত্যা ও করুণ সভ্যতার ময়নাতদন্ত
ক আছ চ র জশ ট – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে ঘটে এক ঘুরে বেড়ানো নৃশংসতা সবার হৃদয় কাঁপিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনা কেবল একটি হত্যার কাহিনী নয়, বরং দাঁড়িয়েছে মানবিকতার চরম শোকের ময়নাতদন্তে। মোবাইল চুরির অভিযোগে নিয়ন্ত্রণহীন তোফাজ্জল হোসেনকে প্রায় তিন ঘন্টা ধরে অপমান ও বেদম মারপিটের শিকার করা হয়েছিল। কাঁচি দিয়ে চুল কেটে দেওয়া, ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে শরীর থেঁতলে দেওয়া এবং বুকে লাথি মারার বিবরণ আদালতের নথিতে বন্দি।
আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়েছে বিধবা পরিবার
তোফাজ্জল হোসেন ছিলেন বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাঁর পিতা আব্দুর রহমান ২০১১ সালের ১১ মার্চ একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। পিতা হারিয়ে তাঁর মা বিউটি বেগম ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০১৩ সালের ১০ আগস্ট মারা যান। পরিবারের শেষ আশার প্রতিকূলে তোফাজ্জল নিজের ভাই নাসিরকে ভরসা করেন। কিন্তু সেই ভাইও ২০২৩ সালের ৭ এপ্রিল লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। নিঃস্ব হয়ে তোফাজ্জল সম্পূর্ণ এক সুন্দর পরিবারের ক্ষতি হয়েছিল।
তিনি বরিশাল বিএম কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেন। পরবর্তী সময় পাথরঘাটাসহ বিভিন্ন থানায় রাইটার হিসেবে প্রায় সাড়ে তিন বছর কাজ করেন। তবে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও তাঁর সম্পর্কের মাধ্যমে প্রতিবেশীদের পরিবার তোফাজ্জলকে হারিয়ে তাদের অপমান বৃদ্ধি করেছিল। তিনি একটি শান্ত ও ভদ্র ছেলে ছিলেন। কিন্তু ক্ষমতার নিষ্ঠুর হাতে তাঁর কেবল একটি খাবার চাইতে যাওয়া দুঃখে তিনি স্বীকৃতি পান নি।
আসামি ওয়াজিবুল জানান, “সেদিন দুপুরে হলে টুর্নামেন্ট চলার সময় ৬টি মোবাইল চুরি হয়েছিল। সন্ধ্যার পর হলের মাঠে ফুটবল খেলা দেখার সময় তোফাজ্জল এসে রকি ও সুলতানের পাশে বসে। তারা তাকে চিনত না। তাই দুপুরের মোবাইল চুরির অভিযোগে তাকে চড় ও থাপ্পড় মারতে শুরু করে। এরপর ২০-৩০ জন মিলে তাকে গেস্টরুমে নিয়ে যাওয়া হয়। রকি ও সুলতান তাকে লাঠি দিয়ে বেদম মারপিট করে।”
এরপর তোফাজ্জলকে ক্যান্টিনে নিয়ে পেট পুরে ভাত খাওয়ানো হয়। তিনি ভেবেছিলেন ভাত দেওয়া হয়েছে তাই এরা তাকে আর মারবে না। কিন্তু খাওয়া শেষে তাকে এক্সটেনশন ভবনের গেস্টরুমে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে চড় ও থাপ্পড় মারার পর তার সমস্ত শরীরে ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত হয়। যখন তিনি যন্ত্রণায় চিৎকার করলেও কারও মন গলে নি।
আসামি সুমন স্বীকার করেন, “তোফাজ্জল মারপিটে শোক সহ্য করতে না পেরে চুরির মিথ্যা কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। কাপড় দিয়ে পা বেঁধে রক্ত বন্ধ করা হয় যেন নি