আনিসুজ্জামানের আত্মকথার আগ্রহ বাড়িয়েছে সমষ্টিকথন
আন স জ জ ম ন র – আনিসুজ্জামানের আত্মকথার প্রথম পর্ব কাল নিরবধি পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৩ সালে। তার আগে তিনি ১৯৯৭ সালে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির সংগ্রহ করে তার প্রকাশ ঘটেছিল। এই আত্মকথার দুটি পর্ব পাঠকদের মনে চিত্ত আকর্ষণ করেছিল। যেহেতু এই গ্রন্থের প্রারম্ভে লেখকের ‘নিবেদন’ অংশ থেকে পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত হওয়া কাল নিরবধি পর্বগুলি আগে থেকে ছিল, তাই এক দশকের বেশি সময় পরে সদ্য প্রকাশিত বিপুলা পৃথিবী সাহিত্যপরিসরে একটি আগ্রহোদ্দীপক বিষয় বৈকি।
বিপুলা পৃথিবী ব্যাপক সময়ের স্মৃতির সংগ্রহ করে গঠিত। গ্রন্থের প্রারম্ভে লেখকের বাক্যে এই রচনার সম্পাদনা ও প্রকাশমুহূর্তে উল্লেখযোগ্য পূর্বভাষ ছিল— “কেউ কেউ অবশ্য সাবধান করে দিয়েছেন এই বলে যে, যত কাছাকাছি সময়ের কথা বলতে যাবো, তা নিয়ে তর্ক তত প্রবল হবে। এই সাবধানবাণীর সত্যতা আমিও মানি। বিতর্ক এড়াবার একমাত্র উপায় কিছু না-লেখা। না-লিখতে মনটা সায় দিলো না। নিজের সম্পর্কে জানানোটা জরুরি নয়, কিন্তু যা দেখেছি যা শুনেছি, তার অনেকখানি গুরুত্বপূর্ণ।”
পাঁচ শতাধিক পৃষ্ঠার অনন্য আত্মকথাটির পাঠে উপলব্ধি হয় আনিসুজ্জামানের দেখা ও শোনার স্মৃতিভাষ্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। গ্রন্থে সাবয়ব নিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে পাঁচটি শিরোনামে— “নতুন যুগের ভোরে”, “অস্তাচলের পানে”, “হননের কাল”, “কাছে-দূরে” এবং “হালখাতা”。 পুরোনো গ্রন্থগুলির সূত্রপাত করেছিল আনিসুজ্জামানের জীবনের একটি দীর্ঘ পর্ব।
২৬ এপ্রিল ১৯৭১ থেকে নতুন সহস্রাব্দে নোঙর করা হয়েছে সাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনাগুলি সম্পর্কে নতুন তাৎপর্য। এখানে দেখা যায় যে, আনিসুজ্জামানের জীবন যেমন মোটা দাগে বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে উল্লেখযোগ্য হয়েছিল, তেমনি কোনো না কোনভাবে তিনি সেসব অধ্যায়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন, প্রথম শিক্ষা কমিশনের সুপারিশ, ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমিতে প্রথম জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন, বঙ্গবন্ধু সরকার থেকে তাজউদ্দীন আহমদের দূরত্ব, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, ৩ নভেম্বরে জেল হত্যাকাণ্ড, ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ, জিয়া ও এরশাদের ক্ষমতাপর্ব এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, ১৯৮১ সালে বাং