Bangladesh

‘মৃত্যুদণ্ড’ যথেষ্ট নয়, কী হতে পারে ধর্ষণের সাজা? | সংবাদ

স্তি কি সার্থিক হতে পারে? ম ত য দণ ড যথ ষ - রাজধানী ঢাকার পল্লবী এলাকায় আট বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ করে মৃত্যুদণ্ডে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই দ্রুত রায়

Desk Bangladesh
Published June 13, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments

ধর্ষণের শাস্তি কি সার্থিক হতে পারে?

ম ত য দণ ড যথ ষ – রাজধানী ঢাকার পল্লবী এলাকায় আট বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ করে মৃত্যুদণ্ডে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই দ্রুত রায় কি সত্যিই ধর্ষণ প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে? সামাজিক কলঙ্কের আঁকাবাঁকা ঘটনার ভয়ে অসংখ্য ধর্ষণ ঘটনা অপ্রকাশিত থাকে। মাগুরার আছিয়া ও কুমিল্লার তনুর মামলা সেই সামাজিক ভয়ের একটি প্রতিফলন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ধর্ষণে শিকার হয়েছে পৌনে ৫১৬ জন নারী ও শিশু। এ সংখ্যা ২০২৫-২৬ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৭৮৬ এর উপর। এই বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ হলো নির্যাতনের ঘটনাগুলো বেশি বিস্তৃত হওয়া।

ঐতিহাসিক সাজাগুলো মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে আদালত। তবে মামলার পর ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে এই শাস্তি কার্যকর হয়নি। কুমিল্লার তনু হত্যার ঘটনার ৯ বছর পরও তদন্ত সমাপ্ত হয়নি। ঢাকার খিলক্ষেতে স্বামী-স্ত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণ ঘটনায় সাত জন আসামি কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে দুই বছর পরও রায় চূড়ান্ত হয়নি।

অপরাধীর ভয় কেন কম?

বাংলাদেশে ধর্ষণের মামলাগুলো সাজার হার মাত্র ০.১ শতাংশ। এই দুর্দশা জাতিসংঘের জরিপের মতো প্রমাণিত। তার পরিসংখ্যান বলছে, ৯৫.১ শতাংশ শহুরে ধর্ষক আইনি পরিণতির মুখোমুখিই হয়নি। মৃত্যুদণ্ড যদি চূড়ান্ত না হয়, অপরাধীর ভয় কমে যায়।

মানুষের মনে প্রকৃত ভয় তৈরি করে শাস্তির অনিবার্যতা ও স্থায়িত্ব।

এই বিষয়ে ইতালীয় দার্শনিক সেসারে বেকারিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “শাস্তির তীব্রতা নয়, এর স্থায়িত্ব মানুষকে বেশি ভয় দেয়।” এই মতবাদ বাংলাদেশে প্রয়োগ করলে দেখা যায়, একটি ধর্ষণ মামলার রায় কার্যকর হয়েছে প্রায় ১৬ বছর পর।

যে কোনো অপরাধী যদি ধরা পড়লেও পার পাওয়া যায়, শাস্তি ততটুকু কার্যকর হবে না।

বিকল্প পথ অনুসরণ করে ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকো প্রস্তাব দিয়েছেন যে শাস্তি দৃশ্যমান ও সামাজিক প্রভাব ফেলতে হবে। তিনি বলেছেন, “শাস্তি যদি দীর্ঘস্থায়ী ও সামাজিক ভাবে কার্যকর হয় না, তার প্রতিরোধক শক্তি থাকে না।”

প্রায় আড়াইশো বছর আগে বেন্থাম বলেছিলেন, “মানুষ অপরাধ করার আগে একটি অচেতন হিসাব করে। সম্ভাব্য সুবিধা কি শাস্তির চেয়ে বেশি আকর্ষণীয়?” তাঁর মতে শাস্তির নিশ্চয়তা কঠোরতার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Comment