নদী গিলছে স্কুল, বিপাকে ২ হাজার শিক্ষার্থী
নদ গ লছ স ক ল ব – গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও ঝিঞ্জিরাম নদীর ভাঙনের কারণে বিপুল ক্ষতি হয়েছে। এতে চরাঞ্চলে কমপক্ষে ২ হাজার শিক্ষার্থী বিপাকে পড়েছে। একই সময় দুই জেলায় গত দুই মাসে অন্তত ১০ হাজার পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে অস্থায়ী জীবন যাপন করছে।
গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার গাড়ামারা সিপি এবং গুয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ফুলছড়ি উপজেলার চৌমোহন, আগারীদহ এবং উত্তর খাটিয়ামারী বিদ্যালয় তিনটি বর্তমানে নদী গিলে আছে। সদর উপজেলার চিতুলিয়া দিঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভাঙনের মুখে পড়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। সুন্দরগঞ্জের ভোরের পাখি বিদ্যালয়টি তিস্তার ভাঙনে ঝু�ঁকিতে রয়েছে।
কুড়িগ্রামে রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্র ও ঝিঞ্জিরাম নদীর ভাঙনে ফলুয়ারচর এবং চরখোদাইমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে পাশের চরে অস্থায়ী ঘর তৈরি করে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তবে তারা মুখ্যত ২৬০ জন শিক্ষার্থী পড়াতে বাধ্য হয়েছে। চর রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ বিদ্যালয়টি আগামী সপ্তাহে স্থানান্তর করার সম্ভাবনা রয়েছে।
চিলমারী ও উলিপুর উপজেলার আরও ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে ঝুঁকিতে রয়েছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কালির আলগা, আটাশির চর এবং বালাডোবা বিদ্যালয় তিন মাস আগে স্থানান্তর করা হলেও নতুন স্থানে শিক্ষার্থীদের সংকট তৈরি হয়েছে।
গাইবান্ধায় মোট ২০টি পয়েন্টে নদীভাঙন তীব্র হয়েছে। এতে অন্তত ৭ হাজার পরিবার ভাঙনের শিকার হয়েছে। কুড়িগ্রামে আরও ১৭টি পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে তিন হাজার পরিবার ঘর ও ফসলি জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের জীবন চরম অনিশ্চিত হয়ে আছে।