জাল সনদে ২৯ বছর চাকরি: নওগাঁর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ
Banglabeacon.com – জ ল সনদ ম দ র স – নওগাঁ সদর উপজেলার চকপ্রসাদ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ বি এম আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তিনি জাল সনদ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে ইস্যুকৃত সনদ ব্যবহার করে গত ২৯ বছর ধরে শিক্ষকতার চাকরি করছেন। এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জাল সনদের প্রমাণ ও বিস্তারিত তথ্য
২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড একটি চিঠির মাধ্যমে জানায় যে, আব্দুল কাদেরের ১৯৮১ সালের দাখিল পরীক্ষার (রোল-৮৪৪৯, রেজি. নম্বর- ৪৫১২) এবং ১৯৮৩ সালের আলিম পরীক্ষার (রোল-৭৪৮৬, রেজি. নম্বর- ৭৯০২) সনদ দুটি জাল। উল্লেখিত রোল ও নিবন্ধন নম্বরের সনদ আসলে ইমান ফকর উদ্দীন নামের এক ব্যক্তির নামে ইস্যু করা হয়েছিল।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, আব্দুল কাদের ১৯৯৭ সালে চকপ্রসাদ ইসলামিয়া মাদ্রাসার একতেদাশী শাখার সহকারী মৌলভী পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ৩ জুলাই মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটি রেজুলেশন করে তাকে বিধি বহির্ভূতভাবে এবতেদাশী সহকারী মৌলভী থেকে সরাসরি আলিম শাখার আরবী প্রভাষক হিসেবে পদোন্নতি দেয়।
আমার সনদ জালের বিষয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মাদ্রাসা বোর্ডের নামে ভুয়া চিঠি দেখিয়ে আমাকে হরানি করা হচ্ছে। আমার সনদের বিষয়ে হাইকোর্টেও একটা মামলা চলমান আছে।
— এ বি এম আব্দুল কাদের, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ
এছাড়াও অভিযোগে বলা হয়, আব্দুল কাদের শিক্ষকতার পাশাপাশি এক দশকের বেশি সময় ধরে নওগাঁ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো-২০২৬ এর ১১ দশমিক ১০ (ক) ধারাকে তোয়াক্কা না করে তিনি একই সঙ্গে শিক্ষকতা ও কাজী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চকপ্রসাদ আলিম মাদ্রাসার এক শিক্ষক বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি যে জাল সনদে চাকরি করছেন তার প্রমাণপত্র থাকার পরেও তার বিরুদ্ধে রহস্যজনকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চকপ্রসাদ আলিম মাদ্রাসায় গিয়ে এ বি এম আব্দুল কাদেরকে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, মাদ্রাসা বোর্ড ও জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর আবার অভিযোগ করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে তিনি তদন্ত কমিটি ও আদালতের কাছেই জবাব দেবেন।
নওগাঁ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন বলেন, চকপ্রসাদ আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিগগিরই তদন্তের দিন ঠিক করা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা মিললে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
