জনবল সংকটে প্রান্তিক খামারি সেবা পৌঁছানো বন্ধ হয়েছে কোটি টাকার ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিকে
জনবল স কট বন ধ ক ট – ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় সরকারের প্রান্তিক খামারিদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা উদ্যোগ হিসেবে চালু করা হয়েছিল ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি ক্লিনিক। কোটি টাকার উপর প্রায় সম্পূর্ণ সরঞ্জাম ও গাড়ি সরবরাহ করা হয়েছিল, কিন্তু জনবল সংকটের কারণে ক্লিনিকটি সাধারণভাবে কাজ করছে না। খামারিরা জানিয়েছেন, কৃত্রিম প্রজনন, অস্ত্রোপচার ও পশু রোগ নির্ণয় সেবা সম্পন্ন করতে পারছেন না।
এই ক্লিনিকটি লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এলডিডিপি) আওতায় চালু করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল প্রান্তিক খামারিদের সুবিধার জন্য সেবা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু সরঞ্জামগুলি সচল থাকলেও কর্মী সংকট ও বাজেট সমস্যার কারণে কাজ বন্ধ হয়ে আছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কোটি টাকার ব্যয়ে প্রান্তিক খামারি সেবা সুবিধাজনক করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
১১টি পদের মধ্যে বর্তমানে কেবল ৪ জন কর্মী চাকরি করছেন। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি শূন্য থাকায় উপজেলার স্থানীয় খামারিরা সুবিধা পাচ্ছেন না। ডা. কে. এম. আসাদুজ্জামান বলেন, “মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠার পর সেবা পৌঁছানো। কিন্তু জ্বালানি ও কর্মী সংকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ক্লিনিকটি সাধারণ কাজে ফেরত আসতে পারে।”
“আমি যোগদানের পর নাটিমা ইউনিয়নে একদিন এই ক্লিনিকে সেবা দেওয়া হয়েছে। তবে গাড়ি জ্বালানি খরচ ও কর্মী ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে।”
খামারিরা জানিয়েছেন, গবাদিপশু অসুস্থ হলে দূর-দূরান্ত থেকে সদর শহরে নিয়ে আসা খরচসাধ্য। ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিকটি নিয়মিত চালু থাকলে বাড়িতে বসেই উন্নত চিকিৎসা পেতে পারতেন। স্থানীয় খামারি ও সংশ্লিষ্টদের দাবি রয়েছে, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে ক্লিনিকটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা আবশ্যক।
২০২৬ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাজেটের প্রয়োজনীয়তা দেখা গেছে। খামারিরা জানিয়েছেন, ক্লিনিকটি সাধারণ কর্মীদের চাকরি না পেলে পরিষেবা চালু করা সম্ভব হয় না।