চ ন দ খ চ ন সুখের আঁচ | সংবাদ
পরিচয়
চ ন দ খ চ ন স – মফস্বলে শীতের এক সকালে বাড়িটি বিশেষ ধরনের গাছের পাতার ওপর কেন্দ্র করে আছে। সোনারোদের মতো ছড়িয়ে দিয়েছে আবির মুঠো মুঠো পড়েছে মূল ফটকের দরজা খুলে শব্দ করে। রোয়েনা কপালের ওপর থেকে চুল সরিয়ে নেয় যেন কেউ বহুদিন বোধ হয় কব্জায় তেল দেয়া হয়নি। সারারাত রেল ভ্রমণের ক্লান্তি তার চোখে রয়েছে। এই চ ন দ খ চ ন স সৃষ্টি করে দুঃখ ও সুখের একটি পরিচয়।
প্রাকৃতিক বর্ণনা
এই বাড়িতে শেষবার যখন এসেছিল তখন বয়স ছিল ষোলো। পেয়ারা গাছে উঠে পা ঝুলিয়ে বসে থাকতো। চাচাতো ভাই ডাকতো শেওড়া গাছের পেত্নী। সে কথা মনে পড়লে হেসে ফেলেছিল রোয়েনা। পেয়ারা গাছের ওপরে থেকেই পাল্টা জবাব দিতো সে— হয়নি। বলো পেয়ারা গাছের পেত্নী।
তার মনে পড়া ঘটনা
দশ বছর বাদে গাছটাকে দেখা যাচ্ছে না। পেয়ারা গাছ আর নেই। কিন্তু করমচার গাছটার কাছে গিয়ে চ ন দ খ চ ন স মনে পড়ে আসে। দাদি করমচার একটা জেলি বানাতেন। হাস্নাহেনা গাছটার কাছে গিয়ে মন বিষণ্ন হয়ে গেল। সৌরভ ছড়ানো গাছটা কেমন নিষ্প্রাণ। এমনই হয়েছিল এমনই হবার কথা।
এই বাড়িতে এখন তেমন কেউ থাকেন না। বাড়িটা তার প্রাণ হারিয়েছে। দোতলার বারান্দায় চোখ গেল রোয়েনা সিঁড়ি দিয়ে উঠতেই। দোলনা ঝুলতো এখানে। ইংরেজিতে বলে হ্যামক। তখন ও বারান্দার কাজ শেষ হয়নি। গ্রিল দেয়া হয়েছে; তবে প্লাস্টারবিহীন ইট দেখা যেত পাঁচিলে। অবচেতনেই রোয়েনা তার চিবুকে হাত দিলো। কতবার দোলনা চড়তে গিয়ে পা ফস্কে সামনের পাঁচিলে চিবুক কেটে গেছে। দাগটা রয়ে গেছে এখনও।
অতীতের ঝড় ছাড়া প্রতিশ্রুতি
বারান্দা দিয়ে নিচে তাকালে ভেতর আঙিনার উঠোন দেখা যায়। ঠিক এই জায়গাতেই ছোট ফুপার চল্লিশার আয়োজন হয়েছিল। অদ্ভুত দুর্ঘটনায় মারা গেলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকরির সুবাদে গিয়েছিলেন সমতলের মানুষ। গাড়ি দুর্ঘটনায় খাদে পরল। রহমত ফুপা গাড়ি থেকে লাফ দিলেন। পাথরে মাথা ঠুকে মৃত্যু হলো। গাড়ির বাকি যাত্রীরা রইলে