আর্থার কোয়েসলার : বুদ্ধিবৃত্তি ও সৃষ্টিশীলতা
আর থ র ক য় সল র – আর্থার কোয়েসলারের নাম আমি প্রথমবার শুনি ১৯৮১ থেকে ১৯৮২ সালে, আমার সমীপস্থ বন্ধু কবি অধ্যাপক অসীম কুমার দাসের কথায়। তখন আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি অনার্সের ছাত্র ছিলাম। অসীম অনেক সময় কোয়েসলারের আশ্চর্য বুদ্ধিবৃত্তি ও সাহিত্যপ্রতিভার প্রসঙ্গ তুলতেন। তিনি কেবল কোয়েসলারের রচনার বিষয়ে আলোচনা করেননি, বরং বোর্হেস, নিকোস কাজানজাকিস, মার্কস প্রমুখের রচনাও আমাদের মধ্যে প্রায় সবার আগে পরিচিত করেন। তার সমালোচনা সাধারণ ছাত্রদের জন্য অনেক গভীর অনুভূতি জন্মানোর কথা ছিল।
১৯৯৭/৯৮ সালে কোয়েসলারের লেখা পড়ার জন্য আমার মন কম্পিত হয়েছিল। এ সময় তার উপন্যাস এবং অত্যন্ত সুপরিচিত গ্রন্থ Darkness at Noon (১৯৪০) কে বিশেষ আকর্ষণ করেছিল। কোয়েসলার আদৌ জনপ্রিয় লেখক ছিলেন না, কিন্তু তাঁর গভীর বিষয় নিয়ে লিখার অদ্ভুত মেজাজের কারণে তাঁর অনেক পাঠক আকৃষ্ট হয়েছিল। তাঁর আত্মজীবনী আর্থারের লেখার সংগ্রহ সাহিত্য বিশ্বব্যাপী চর্চা করেছিল যে কম-বেশি বিনোদনমূলক সামগ্রী ছিল।
জন্ম ও প্রাথমিক জীবন
কোয়েসলারের জন্ম হাঙ্গেরিতে ১৯০৫ সালে বুদাপেস্টে হয়। ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশুনা করতেন ভিয়েনায়। এই সময় থেকে তার রাজনৈতিক স্বাধীনতা প্রাপ্ত হয়েছিল। তাঁর বাবা-মা ইহুদি ছিলেন। যুক্তিবিপ্লব ও মার্কসবাদের প্রভাবে তিনি ছোট বয়সেই অনাসক্ত ও বিপ্লবী হয়ে ওঠেন। কোয়েসলার সাংবাদিকতা পেশার পছন্দ করেন ১৯৩০ সালে। কেবল তা নয়, পারিস, বার্লিন প্রমুখ শহরে সাংবাদিকতা করেন।
স্পেনের জীবন ও গ্রন্থ রচনা
১৯৩৬ সালে তিনি স্পেনে গমন করেন এবং গৃহযুদ্ধের বিষয়ে রিপোর্ট লিখেন। সেখানে তাঁকে মালাগায় পরে সেভিলে বন্দি করা হয়। তাঁকে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়, কিন্তু মার্কসবাদের মাধ্যমে তার স্ত্রী ডরোতি অ্যাশার চেষ্টা এবং তদ্বিরের কারণে ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপে কারাগার থেকে মুক্তি পান। যুক্তি এবং আত্মজীবনী অবতারণা করেছিলেন তার মধ্যে কম-বেশি সাহিত্য পরিচিতি এবং চিন্তা গভীরতা ছিল।
বিংশ শতাব্দীর কঠিন লেখকদের একজন আর্থার কোয়েসলার। যাদের কাছে তিনি পাঠকনন্দিত তারা সকলেই অগ্রসর পাঠক বা ভাবুক পাঠক। কেননা তাঁর বেশিরভাগ রচনার উপজীব্য দর্শন, বিজ্ঞান ও মনস্তত্ত্ব।
তার বিজ্ঞান ও দর্শনের গ্রন্থগুলো বিশ্বব্যাপী পরি�