পত্রিকাটি গণমুখী চেতনার প্রতিফলন
আধ ন ক ও জ ঞ নভ – দূর শৈশবে সংবাদ পত্রিকার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। যতদূর স্মৃতি থাকে, ছাত্র ইউনিয়নের সহপাঠী অমূল্য পোদ্দারের বাসায় প্রথম কাগজটি দেখা হয়। তখন গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ আজাদ বা ইত্তেফাক পড়তো, কিন্তু সংবাদ পড়তেন কম লোক। তারা তো সংবাদের বামপন্থী চেতনার প্রতি অনুরাগী ছিল।
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পত্রিকাগুলির মধ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। দেশের ইতিহাসে কোনো কোনো মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতিফলন হয়েছিল সংবাদের মাধ্যমে। কালের সাক্ষী হয়ে পত্রিকাটি বাংলার জনগণের সংগ্রাম এবং আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ ৭৪ বছর।
১৯৫১ থেকে চলতে শুরু করেছিল সংবাদ
১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের প্রথম সরকার প্রধান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র ভাষা ঘোষণার প্রতিবাদে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন বিশেষ দৃষ্টিতে প্রকাশ পেয়েছিল সংবাদ। কেন্দ্রীয় সরকার যখন ১৯৫৪ সালে পূর্ববঙ্গে যুক্তফ্রন্ট সরকার ভেঙে দেয়া হয়, তখন সংবাদ তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক আলোচনা করেছিল।
১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগের কাগমারী সম্মেলনের পর মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করেন। এর বিরুদ্ধে সংবাদ নানা কারণে সমর্থন জানায়। যখন সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খান ইসকান্দার মির্জাকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন, তখন সংবাদের কাছে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
১৯৬২ সালে সামরিক আইন প্রত্যাহারের পূর্ব পর্যন্ত কঠোর নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত ছিল। সংবাদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আহমদুল কবিরের সম্পাদিত স্মারকগ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, সংবাদের মফস্বল পাতায় প্রকাশিত ছিল একটি নিউজ যার শিরোনাম ছিল “রামগতিতে চালের দর ৪২ টাকা।” ঐ খবরের প্রতিক্রিয়ায় খাদ্যমন্ত্রী হাফিজুর রহমান সংবাদের সম্পাদক জহুর হোসেন চৌধুরী এবং পরিচালক আহমদুল কবিরকে তদন্তে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। ঐ দিন প্রতি মণ চালের দাম ৪২ টাকা ছিল, কিন্তু পত্রিকাটি সে সংখ্যা প্রকাশ করে কারণ খরচের সূত্রে বলবৎ দাম প্রকাশ করেছিল।
মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবাদের ভূমিকা
১৯৬৪ সালে পাকিস্তান সরকার প্রেস ট্রাস্ট গঠন করে গণমুখী কাগজগুলিকে নিয়ন্ত্রিত করে। কিন্তু ট্রাস্টের কাগজে সংবাদের সাবেক কর্মী এবং বামপন্থী প্রতিষ্ঠাতাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল। বঙ্গবন্ধু যখন ৬ দফা ঘোষণা করেন, তখন সংবাদ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।
১৯৬৭ সালে সংবাদ বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়েছিল।