বিশ্ববাজারে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে
হ ড় ভ ঙ গ র জ – রংপুরের সুস্বাদু ও আঁশবিহীন হাঁড়িভাঙ্গা আম দেশের একমাত্র জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। এবার এই আম বিশ্ববাজারে চাহিদার জের ছাড়িয়ে চলছে। চলতি মৌসুমে জার্মানিতে প্রথমবারের মতো এক হাজার মেট্রিক টন আম রপ্তানি করা হয়েছে।
রপ্তানি আয় বৃদ্ধির আশা
রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীদের আশা, এ বছর হাঁড়িভাঙ্গা আম থেকে রপ্তানি আয় এক হাজার কোটি টাকার বাইরে পৌঁছবে। গত ১৫ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসার পর থেকে দেশজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা গড়ে উঠেছে।
“গত বছর মধ্যপ্রাচ্যে আম পাঠানো হয়েছিল। এবার জার্মানিতে বড় অর্ডার পাওয়া গেছে।”
রংপুরের সুস্বাদু আম চাষীদের মধ্যে খিয়া মাটির আম বেশি দীর্ঘস্থায়ী এবং সুস্বাদু বলে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে দুই আঁশ মাটির আম স্বাদে কিছুটা কম এবং দ্রুত পচনশীল।
চাহিদার কারণে খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে
খরচ বাড়তে হলেও ক্রেতাদের ব্যাপক চাহিদার কারণে বুধবার হাঁড়িভাঙ্গা আম জার্মানিতে পাঠানো হয়েছে। বরিশাল থেকে আম কিনতে আসা পাইকার মোস্তফা বলেন, কুরিয়ার খরচ ও প্লাস্টিক ক্যারেটের বাড়তি দামের কারণে ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও আম কিনছেন।
বাজারে উত্থান ছাড়িয়েছে
রাজশাহীর আম ব্যবসায়ী মকবুল হোসেনও হাঁড়িভাঙ্গা আম কিনতে পদাগঞ্জে আসেন। তিনি জানান, রাজশাহীতে ল্যাংড়া জনপ্রিয় হলেও হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাহিদা তৈরি হয়েছে।
আম পরিবহনে ব্যস্ততা বেড়েছে। সওদাগর, ইউএস-বাংলা, জননী, সুন্দরবন ও এসএ পরিবহনের অস্থায়ী বুকিং অফিসে আমের স্তূপ দেখা গেছে। কুরিয়ারে ২০ কেজি আম পাঠাতে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা খরচ হচ্ছে।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক হাবিবুর রহমান জানান, হাঁড়িভাঙ্গা আম রংপুরের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এবার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে
অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে দুই আঁশ মাটির আমকে লালমাটির আম বলে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন। বৃহস্পতিবার পদাগঞ্জ হাটে দেখা গেছে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আমের বাজার বসেছে।