সুন্দরগঞ্জে কাঁচা রাস্তার বেহাল দশা, বর্ষায় লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়ছেন
স ন দরগঞ জ ৪১৯ ক ল – গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কম বৃষ্টিতেও কাঁচা রাস্তাগুলি চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটু সমান কাদা গুঁড়িয়ে মানুষ গাড়ি চালাতে হয়। বর্ষা মৌসুমে এ সমস্যা চরম হয়ে উঠেছে।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য মতে সুন্দরগঞ্জে মোট ৭৩৯ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। এর মধ্যে পাকা রাস্তা মাত্র ৩২০ কিলোমিটার। বাকি ৪১৯ কিলোমিটার রাস্তা কাঁচা রূপে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নতুন রাস্তা পাকাকরণের কাজ করা হচ্ছে না বলে প্রতিবছর বর্ষায় চলাচলে বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে।
“কাদার কারণে কোনো ভ্যান বা রিকশা স্কুলে যেতে চায় না। ২০ টাকার ভাড়া দিতে হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা। তাতেও মাঝে মাঝে নেমে গাড়ি ঠেলা লাগে।”
“পরদিন আর ইউনিফর্ম পরা যায় না বলে কাদা লেগে স্কুলে যেতে চায় না অনেক শিক্ষার্থী।”
পৌর এলাকার চিত্রও অনুরূপ। কলেজপাড়ার বাসিন্দা আবদুর রহিম জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় হাঁটু পানি জমে থাকে। খানাখন্দ আর জলাবদ্ধতার কারণে শহরে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।
তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “আগে কাঁচা রাস্তা মেরামতের জন্য কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল, যা এখন প্রায় বন্ধ। ফলে প্রতিবছর রাস্তাগুলো সংস্কার না করায় বর্ষায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।”
উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, পাকা রাস্তা নির্মাণের চাহিদা প্রতিবছর পাঠানো হয়। কিন্তু বর্তমানে কাঁচা রাস্তা মেরামতের জন্য কোনো বিশেষ প্রকল্প নেই। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পেলে কাঁচা রাস্তার পরিমাণ কমানো সম্ভব নয়।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান বলেন, “উন্নয়নবঞ্চিত সুন্দরগঞ্জবাসীদের প্রধান সমস্যা কাঁচা রাস্তা ও নদীভাঙন। আমি জাতীয় সংসদে এ সমস্যা নিয়ে কথা বলেছি। আশা করছি সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।”