সাতছড়ি উদ্যানে জলাধার বিপন্নতার কথা তুলে ধরা হয়েছে
স তছড় উদ য ন জল ধ – সিলেট বিভাগের সবুজ পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য স্থানীয় হিসেবে পরিচিত। এটি রঘুনন্দন হিল রিজার্ভ ফরেস্টের অংশ হিসেবে পরিচিত, যা এক দশক আগে সরকারি কার্যক্রমে জাতীয় উদ্যানে পরিণত হয়েছিল।
বনাঞ্চলটি প্রায় ২৪৩ হেক্টর এলাকায় বিস্তৃত, এবং তার চারপাশে নয়টি চা বাগান অবস্থিত। পশ্চিম দিকে সাতছড়ি চা বাগান, পূর্বে চাকলাপুঞ্জি চা বাগান থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
উদ্যানের ভিতরে কিছু পাহাড়ি জনগোষ্ঠী বসবাস করছে, যারা কাঠ ও মাটি থেকে নির্মিত বাসা খুঁজছে। তাদের ২৪টি পরিবার এখানে বাস করছে, যারা বনের প্রাকৃতিক এবং সাংস্কৃতিক ধারার অংশ হিসেবে পরিচিত।
জীববৈচিত্র্যের মানদণ্ড পূরণ করে উদ্যানটি
বৈচিত্র্যের দিক থেকে সাতছড়ি উদ্যান একটি ক্রান্তিকারী মিশ্র চিরসবুজ বনভূমি হিসেবে বিবেচিত। এখানে বিস্তারিত রয়েছে দুশ’র বেশি উদ্ভিদের প্রজাতি, যার মধ্যে শাল, আগর, গর্জন ও জাম সহ বিভিন্ন স্থানীয় গাছ শাখা বিস্তৃত।
উদ্যানে এমন গাছগুলো রয়েছে যা দ্রুতবর্ধনশীল, যেমন ইউক্যালিপটাস এবং আকাশমনি। এগুলো বনাঞ্চলের স্থায়িত্ব ও পরিবেশগত সামঞ্জস্যতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে প্রাণীদের বৈচিত্র্যের দিক থেকে সাতছড়ি উদ্যান প্রায় অন্যতম অনন্য স্থান। এখানে উপস্থিত প্রাণীর প্রজাতি প্রায় ১৯৭ টি, যার মধ্যে শুধু স্তন্যপায়ী প্রাণী প্রায় ২৪ টি, সরীসৃপ প্রায় ১৮ টি এবং উভচর প্রাণী প্রায় ৬ টি। পাখির সংখ্যা বিস্তারিত প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ প্রজাতির মধ্যে বিস্তৃত।
স্থানীয় বনকর্মীদের তত্ত্বাবধানে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান সংরক্ষিত থাকলেও সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে বিশেষ করে “বড় পুকুর” নামে পরিচিত জলাধারটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার ও চিকিৎসক এস এস আল আমিন সুমন দাবি করেন, এই জলাধার বন বিভাগের উদ্যোগে প্রায় এক দশক আগে খনন করা হয়েছিল। শুষ্ক মৌসুমে বন্যপ্রাণীদের পানি আস্তরণ করতে এর আবশ্যকতা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের দরকার
সাতছড়ি উদ্যান