ঐতিহাসিক ব্রাহ্ম মন্দিরের কথা
য খ ন জ বন নন দ – পুরনো ঢাকার সমীপে অবস্থিত সুমনা হাসপাতালের সামনে একটি লাল রঙের ব্রিটিশ স্থাপত্যের ভবন অবিস্মরণীয় স্মৃতি রেখেছে। সে যুগের জন্ম দেওয়া আধুনিক শিক্ষার এক মূল স্থান হিসেবে কেন্দ্রের ভূমিকা অপূর্ব। তবে সামনে নিরাকার উপাসনার সুনিবিড় বাতাস ও শান্ত পরিবেশ কেবল এক অনন্য প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি নয়, একটি ঐতিহাসিক সাক্ষীর নিবিড় মূল্য।
স্থাপনের মূল বিষয়গুলি
১৮৬৯ সালে ব্রজ সুন্দর মিত্র ও দীননাথ সেনের সামনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কেন্দ্রটি আসলে একতলা ভবন। যদিও উচ্চতায় দোতলার সমান দেখায়, এটি বুকে আধুনিক শিক্ষার অগ্রগতির প্রাথমিক অবতার। তার প্রাঙ্গণ থেকে ইতিহাসের প্রথম ধাপ হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব জন্মেছিল।
শিক্ষা আর সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অবদান
ব্রাহ্ম স্কুল এর আদি রূপ থেকে নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করা কেন্দ্রটি বাংলা সাহিত্য ও সমাজ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। সমাজের আধুনিকতা ও মুক্তির চিন্তা বিদ্রোহী সংস্কৃতির উৎস হিসেবে স্থাপিত হয়েছিল এই চত্বর থেকে।
১৯২৬ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে একটি মহতী নারী সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন।
তার ধ্বংস আর আবার জন্ম
সেই মন্দিরের নিরাকার আবহ ছাড়া কোনো মূর্তি নেই। শান্ত মন্দিরে আবার ইতিহাসের মূল সাক্ষী ভেতরে আবেগের সাথে প্রকাশ পেয়েছিল। যেখানে ইট পরতে পরতে কিংবদন্তির স্মৃতি রয়েছে।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে হানাদার বাহিনী তার বহু দুষ্প্রাপ্য বই ও পাণ্ডুলিপি ধ্বংস করেছিল। সেই ঘটনার পর লাইব্রেরিটি আর আগের শ্রীবৃদ্ধি ফিরে পেয়েছে না। বিশেষ প্রার্থনাসঙ্গীত ও তত্ত্বকথা আলোচনা কার্যক্রম আজও চলছে।
প্রতি রবিবার যখন শূন্য হলঘরে ‘সকাতরে ওই কাঁদিছে’ কিংবদন্তি আলো ছড়াত বা ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’ গানগুলো সুরের সুতোয় বেজে ওঠে, তখন মুহূর্তের জন্য মনে হয় সময়টা যেন অতীতে ফিরে গেছে।
বর্তমান সামাজিক সম্পর্ক
বর্তমানে কেবল বইয়ের পাতা ওল্টানোর মতো কোনো পাঠক চোখে পড়ে না। আজও এই ভবনটি নিয়মিত চলে বিশেষ আয়োজনে আর শিক্ষার সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে বাতিঘরে আছে।