খাদ্যশৃঙ্খলে নতুন ঝুঁকি: মুরগির মাংসে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক
Banglabeacon.com – ম রগ ম ছ ও স ব – বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে দুটি সাম্প্রতিক গবেষণা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। একদিকে ব্রয়লার মুরগির মাংসে নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জের আত্রাই নদীর দেশি পাঁচ প্রজাতির মাছের মাংসপেশিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য এই দুটি বিষয়ই বড় হুমকি বলে গবেষকরা মনে করছেন।
মুরগির মাংসে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল অবশিষ্টাংশ
লন্ডনের রয়্যাল ভেটেরিনারি কলেজের গবেষণা দল বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের ৫৫৮টি মুরগির বুকের মাংসের নমুনা বিশ্লেষণ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু বিক্রয়কেন্দ্রের ৩.৭ থেকে ৮.৬ শতাংশ নমুনার নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি রয়েছে। অথচ ২০২১-২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে এই হার ছিল মাত্র ০.০৫ থেকে ০.০৯ শতাংশ।
অধ্যাপক লুডোভিক পেলিগ্যান্ডের নেতৃত্বে এই গবেষণায় বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জবাইয়ের ঠিক আগ মুহূর্তেও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ প্রয়োগ করা হতে পারে। মুরগির খাদ্য ও পানীয় জলও দূষণের কারণ হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, মানুষের শরীরে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক প্রবেশ করলে তা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে। ফলে সাধারণ সংক্রমণও নিরাময়ে ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশে এই রেজিস্ট্যান্সজনিত মৃত্যুর হার বেড়েছে।
আত্রাই নদীর মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় আত্রাই নদীর কই, বাটা, মেনি, গুলশা টেংরা ও পুঁটি মাছের অন্ত্র, ফুলকা ও মাংসপেশিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে কই মাছে। বর্ষা, শীত ও শুষ্ক মৌসুমে প্রতিটি কই মাছের মাংসে গড়ে একটি করে প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
গবেষণায় প্রতি লিটার পানিতে ১১ থেকে ৩১.৬৭টি এবং প্রতি কেজি পলিম্যাটিতে ১২.৩৩ থেকে ১২৭.৩৩টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। বর্ষাকালে পানিতে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি ছিল। ৩৪ থেকে ৬৩ শতাংশ কণা ছিল মাইক্রোফাইবার, যার প্রধান উৎস কাপড় ধোয়ার পানি, গৃহস্থালির বর্জ্য ও মাছ ধরার জাল।
বর্তমানে এসব মাছ খেয়ে সরাসরি ক্ষতির প্রমাণ নেই। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে এ ধরনের কণা জমতে থাকলে ২৫ থেকে ৩০ বছর পর এর প্রভাব দেখা দিতে পারে। পরবর্তী প্রজন্মের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
গবেষণায় পলিথিলিন, পলিপ্রোপিলিন, পলিস্টাইরিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড ও পলিকার্বোনেট শনাক্ত হয়েছে। আত্রাই নদীর পানি ও পলিম্যাটি উচ্চ পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলেও সতর্ক করেছে গবেষক দল।
বাজারে প্রভাব ও ভবিষ্যৎ গবেষণা
গবেষণার এই তথ্য সামনে আসার মধ্যেই ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০-২৩০ টাকা কেজিতে। মাছের বাজারেও দাম বেশি। ফলে অনেক ক্রেতা কম দামি চাপিলা মাছের দিকে ঝুঁকছেন। কিছু কারখানায় মুরগির বিষ্ঠা দিয়ে মাছ চাষের অভিযোগও রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করছে।
এটি একটি যুগান্তকারী গবেষণা। এতদিন এশিয়ার একই মানদণ্ডে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ পরিমাপের এমন তথ্য ছিল না। এই গবেষণা খাদ্য নিরাপত্তার উন্নতিতে কাজ করবে।
গবেষক দল এখন পোলট্রি উৎপাদন চক্রে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের ব্যবহার ও মাইক্রোপ্লাস্টিক কীভাবে খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে, তা নিয়ে কাজ করছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ম রগ ম ছ ও স ব?
ম রগ ম ছ ও স ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ম রগ ম ছ ও স ব matter?
ম রগ ম ছ ও স ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.