বাইশে শ্রাবণ : আগে ও পরে
ব ইশ শ র বণ - বাইশে শ্রাবণ—১৯৪১ সালের ২৫ জুলাই, কবিকে শেষবারের মতো শান্তিনিকেতন থেকে তাঁর জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল। ৮০ বছর আগে তিনি যে
Table of Contents
বাইশে শ্রাবণ: রবীন্দ্রনাথের শেষ যাত্রা ও বিদায়ের স্মৃতি
Banglabeacon.com – ব ইশ শ র বণ – বাইশে শ্রাবণ—১৯৪১ সালের ২৫ জুলাই, কবিকে শেষবারের মতো শান্তিনিকেতন থেকে তাঁর জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল। ৮০ বছর আগে তিনি যে বাড়িতে প্রথম চোখ মেলে এ পৃথিবীর আলো দেখেছিলেন সেখানেই। তৎকালীন বৃটিশ সরকারের রেলওয়ের একটা বিশেষ সেলুনকোচে করে তাঁকে কলকাতায় আনা হয়েছিল। বোলপুর থেকে সকাল ৮ টায় ছেড়ে আসা ট্রেনটি অপরাহ্ণে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছেছিল। এই বাইশে শ্রাবণের দিনে কবির শেষ যাত্রা শুরু হয়।
সেদিন সকাল থেকে শান্তিনিকেতনের আশ্রমের বাতাসে কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। কবি স্ট্রেচারে শুয়েই তাঁর ঋষিজ চোখে তাকিয়ে ছিলেন। প্রায় ৭০ বছরের স্মৃতিজাগানিয়া শান্তিনিকেতনের চারদিকটা দেখছিলেন। রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষও জোড়হাত করে প্রণাম জানাচ্ছিল। তখন কবির চোখ অশ্রুসজল ছিল। প্রায় ৭ ঘণ্টার রেলপথে কবি সুস্থই ছিলেন। ট্রেনে স্বজনদের সঙ্গে খুশ আলাপ করেছেন।
২৬ জুলাই সারাদিন কবির শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ভালো ছিল। অনেকের সঙ্গে স্মৃতিচারণ করেছেন, মুখে মুখে দুইেক লাইন কবিতা রচনা করেছেন। তাঁর লেখা “বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা” কবিতাটি শুনতে চেয়েছেন। বলেছিলেন, “এ কবিতাগুলো তোমরা মুখস্থ করে রাখবে”।
রোগ ও চিকিৎসার ইতিহাস
একথা সত্য যে, কবিগুরু ১৯৩৭ সালে তাঁর বয়স ৭৬ বছর হলে তখনই মোটামুটি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন তিনি ইরিসিপ্লাস নামক রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। বলা চলে, এর পর থেকে তাঁর শরীর কখনো রোগহীন ছিলই না। প্রোস্টেটসহ আরও কিছু শারীরিক সমস্যা ছিল। তবে কবির শরীরে অপারেশন নিয়ে ভারতের বিখ্যাত দুইজন চিকিৎসকের মধ্যে খানিক মতবিরোধ হয়েছিল। এঁরা হলেন ডাঃ নীলরতন সরকার আর ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়।
ডাঃ নীলরতন অপারেশনের পক্ষে ছিলেন না, কিন্তু বিধান রায়ের যুক্তিতে রবীন্দ্রনাথের সুকুমার শরীরে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ডাঃ নীলরতন শারীরিক অবস্থা দেখে বলেছিলেন, ‘ওষুধ দিয়েই কবির চিকিৎসা চলুক’।
উল্লেখ্য যে, অপারেশনের বিষয়ে কবিগুরুর নিজেরও প্রবল অনিচ্ছা ছিল। বলেছিলেন, “শনি যদি একটা কিছু ছিদ্র খাঁজে, সে যদি আমার মধ্যে রন্ধ্র পেয়েই থাকে তাকে স্বীকার করে নাও। মানুষকে তো একদিন মরতেই হবে। যাবার আগে আমাকে নিয়ে টানাছেঁড়া কেন?”
জীবনের শেষ দিনগুলি
৩০ জুলাই। অপারেশনে অল্প আগে কবিগুরু জীবনের শেষ কবিতা মুখে মুখে বললেন, “তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি/বিচিত্রছলনা জালে/ হে ছলনাময়ী”। তিনি অসুস্থ পুত্রবধূ প্রতিমা দেবীকে একটা চিঠিও মুখে বলে লিখিয়েছিলেন। এতে কষ্ট করে নিচে স্বাক্ষর করেছিলেন, ‘বাবামশাই’ বলে। প্রোস্টেট গ্ল্যান্ডের অপারেশনের সময় ব্যথাটা কেমন হবে তা-ও জিজ্ঞেস করেছেন। সেদিন কবির অপারেশনে সব লেগেছিল মাত্র ২৫ মিনিট।
৩১ জুলাই থেকে কবির শরীরে জ্বালা-যন্ত্রণা শুরু হয়। ১ আগস্ট কথাবার্তা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। কেমন যেন আচ্ছন্ন ভাব। ডাক্তাররাও বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েন। তবে কবির চেতন ছিল, কষ্ট হচ্ছে তা বোঝাতে পেরেছেন। ৩ আগস্ট শান্তিনিকেতন থেকে পুত্রবধূ এসে সেবা করতে শুরু করলেন। কানের কাছে কথা বললেন, তিনি সাধ্যমত উত্তর দিচ্ছেন।
৫ আগস্ট মঙ্গলবার। কবির হিক্কা বন্ধ হচ্ছে না, ডাকলেও সাড়াশব্দ কমে গেছে। ডাঃ নীলরতন সরকার, বিধান রায়সহ সবাই এলেন। এঁদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। দুদিন আগে থেকেই স্যালাইন চলেছিল। ৬ আগস্ট বুধবার। কবি মূলত অক্সিজেনের ওপর বেঁচে আছেন। বাইরে আত্মীয় স্বজন, কাছে-দূরের শুভাকাঙ্ক্ষীরা ভিড় জমাচ্ছে। কবির অবস্থা মহাআশঙ্কাজনক, বাতাসে দুঃসংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ির ঘরে-বাইরে লোকে লোকারণ্য।
মহাপ্রাণের খবর
৭ আগস্ট দুপুরে মহাপ্রাণের খবর বেতারে ঘোষণা হলে সারা কলকাতা শহর যেন ভেঙে পড়েছিল ঠাকুর বাড়ির সড়কের ওপর। কবির হৃদস্পন্দন একেবারে শূন্য হয়ে এলে তাঁর নাক থেকে অক্সিজেনের নলটা খুলে দেওয়া হলো। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অনন্তলোকে পাড়ি জমালেন। তখন বাইরের বারান্দা থেকে কেউ একজন গিয়ে চলেছেন— কে যায় অমৃতধামযাত্রী—।
বাঁধভাঙা গণজোয়ারের আর অভূতপূর্ব জনসমুদ্রের ভেতরে স্কুল-কলেজ থেকে ছাত্র ছাত্রীদের মিছিল, শোকাঞ্জলি প্রকাশ করতে আসে, তারা কবিকে এক নজর দেখতে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। জনতা উদ্বেল, অস্থির, পুলিশ বাহিনী এদের সংযত করার চেষ্টা করে। অবস্থাটা দাঁড়ায়, কে কাকে ঠেকাবে এমন। সবকিছু নিয়ন্ত্রণের অধীনে থাকেনি। সেদিন কয়েক ঘণ্টা ধরে সাধারণের জন্যে উন্মুক্ত শ্রদ্ধা নিবেদন চলেছিল।
কবির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নিয়েও বিতর্ক চলে, শান্তিনিকেতন না কলকাতার নিমতলা শ্মশানঘাটে হবে। কবির পুত্র রথীন্দ্রনাথের সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত নিমতলায় স্থির হয়। সেদিন পড়ন্ত বিকেলে বিশাল এক শোকযাত্রা শুরু হলো। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে থেকে বের হওয়া এ শোকযাত্রার শোকাহত লক্ষ জনতার ঢল নেমেছিল। তখন বেতার কেন্দ্র থেকে অনেকের মধ্যে কবি নজরুল ইসলামের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল স্বরচিত কবিতা, ‘ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে’—।
কবিগুরুর মহাপ্রাণে তাৎক্ষণিক শ্রদ্ধাঞ্জলি ও শোকবার্তার অসংখ্য দেশবরেণ্য মানুষ নিজেদের স্ব স্ব অনুভূতির কথা তুলে ধরেছেন। তৎকালীন ভারতবর্ষের প্রায় সকল রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, বৃটিশ গভর্নর জেনারেল, শিল্পীরা তাঁদের শোক প্রকাশ করেন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
বাইশে শ্রাবণ কী?** বাইশে শ্রাবণ হলো বাংলা ক্যালেন্ডারের শ্রাবণ মাসের ২১শে তারিখ। ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট এই দিনেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাপ্রাণ লাভ করেন।
রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর কারণ কী ছিল? কবিগুরু প্রোস্টেট গ্ল্যান্ডের সমস্যায় ভুগছিলেন। অপারেশনের পর শরীরে জ্বালা-যন্ত্রণা ও জ্বর বাড়ে, যা তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রবীন্দ্রনাথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কোথায় হয়েছিল? শান্তিনিকেতন না নিমতলা শ্মশানঘাটে হবে এই নিয়ে বিতর্ক ছিল। শেষ পর্যন্ত কবির পুত্র রথীন্দ্রনাথের সিদ্ধান্তে কলকাতার নিমতলায় কবির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
রবীন্দ্রনাথের শেষ কবিতা কোনটি? ৩০ জুলাই অপারেশনের আগে কবিগুরু মুখে মুখে শেষ কবিতাটি বললেন: “তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি/বিচিত্রছলনা জালে/ হে ছলনাময়ী”।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ব ইশ শ র বণ?
ব ইশ শ র বণ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ব ইশ শ র বণ matter?
ব ইশ শ র বণ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.