পৌরাণিক তিন নায়িকা বিষয় | সংবাদ
প র ণ ক ত ন ন - সঞ্জয় মাথার ওপর হাত ঘুরিয়ে ঋষিদের মতো লম্বা দাড়িতে হাত বুলিয়ে বলেন, এমন ঠিক নয় যে রবি তেমন প্রাচীন কবিদের একজন যার হাতে মহাকাব্য বর্ধিত
Table of Contents
রবীন্দ্রনাথের পৌরাণিক নাটিকা পুনর্নির্মাণ ও চিত্রাঙ্গদার আত্মসম্মান
Banglabeacon.com – প র ণ ক ত ন ন – সঞ্জয় মাথার ওপর হাত ঘুরিয়ে ঋষিদের মতো লম্বা দাড়িতে হাত বুলিয়ে বলেন, এমন ঠিক নয় যে রবি তেমন প্রাচীন কবিদের একজন যার হাতে মহাকাব্য বর্ধিত পরিবর্তিত হবে বা হয়েছে! ঘটনা নিজের মতো প্রকাশ করার স্বাধীনতা নিয়েছেন রবি, ফলে বিশ্বাস ও সংস্কারমুক্ত রবি প্রাচীন কবিদের দাসত্ব না করে নিজের মতো রূপ তৈরি নিয়েছেন, ঘটনাকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। এই পুনর্নির্মাণে তিনি কেবল পুরাণের আখ্যানই নয়, তার মধ্যকার মানবিক সত্যও ফুটিয়ে তুলেছেন।
কাব্যে নতুন স্বর ও স্বাক্ষর
যেভাবে ঘটেছে পুরাণে, যে সুর ছন্দে আন্দোলিত আদি কবিদের কাব্য, রবীন্দ্রনাথ সেই সুর ছন্দে নিজের স্বর ও স্বাক্ষর যুক্ত করেছেন, নিজের মতো ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করেছেন স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশে, সেই প্রকাশে কাব্য-আত্মা দলিত নয় বরং ব্যঞ্জনাময় এবং কালের উপযোগী ভাবনার প্রকাশ ঘটেছে। সবই তো কাব্য ও স্বপ্ন আকাঙ্ক্ষার ইতিহাস, যা সময়ের ঘটনা থেকে নয়, কবির হৃদয়ে জন্ম নেয় স্বাধীনভাবে; যুক্তি সংগতি সম্ভব অসম্ভবের বিচার হবে কাব্যসত্যের আদালতে, সমালোচকের কাঠগড়া নয়।
যেমন দেখ রবির লেখা ‘চিত্রাঙ্গদা’ কাব্য নাটকটি মহাভারতের চিত্রাঙ্গদা থেকে অনেকটাই অন্য রকম।
রূপ-যৌবন ও নারী সত্তার প্রতি পুরুষের উপেক্ষা চিত্রাঙ্গদাকে পীড়িত করে, সব নারীকেই করবে হয়তো। বসন্ত ও মদন দেবের সহযোগিতায় ওই উপেক্ষার বদলে প্রেম ও সম্মান অর্জন করে ছাড়ে অর্জুনের। কিন্তু পুরুষের কাছে এই নারী সম্পূর্ণ নিবেদন করেও আত্মাভিমান ও আত্ম-স্বাতন্ত্র্যের বোধে তৃপ্ত হতে পারে না একান্ত নিজের কাছে। বসন্ত ও মদনের কাছ থেকে ধার নেওয়া রূপ ও মদির যৌবন চিত্রাঙ্গদার নিজের দেহে বহন করলেও একান্ত অন্তর্গতভাবে আত্মার সঙ্গে দেহ সৌন্দর্যের সতীন সম্পর্ক অনুভব করে।
চিত্রাঙ্গদার আত্মসম্মানবোধ
আত্মসম্মানবোধ সংবেদী চিত্রাঙ্গদা গভীরে দীর্ণ হয়, নরলোকের অশান্তি দেহসুখ ছাপিয়ে জেগে ওঠে অন্তরে। ধার করা বাহ্যিক রূপের মোহ দিয়ে ভোলানোর অস্বস্তি রবির সৃষ্টি করা চিত্রাঙ্গদার, আদি কবির নয়। চিত্রাঙ্গদার কণ্ঠে তার সেই অন্তর্গত বোধের কথা শোনো, আজ প্রাতে উঠে, নৈরাশ্যধিক্রান্ত বেগে অন্তরে অন্তরে টুটিছে হৃদয়। মনে পড়িতেছে একে একে রজনীর কথা। বিদ্যুৎবেদনাসহ হতেছে চেতনা। অন্তরে বাহিরে মোর হয়েছে সতীন আর তাহা নারিব ভুলিতে।
সপত্নীরে স্বহস্তে সাজাতে সযতনে, প্রতিদিন পাঠাইতে হবে, আমার আকাঙ্ক্ষাতীর্থ বাসরশয্যা; অবিশ্রাম সঙ্গে রহি প্রতিক্ষণ দেখিতে হইবে চক্ষু মেলি তাহার আদর। ওগো, দেহের সোহাগে অন্তর জ্বলিবে হিংসানলে, হেন শাপ নরলোকে কে পেয়েছে আর।
তোমাকে একটা কথা বলে রাখি, রবির বিশাল কর্মরাজির মধ্যে আরও বহু বহু নারী চরিত্র সৃষ্টি হয়েছে, রবির বিশেষ করে মেয়েদের জন্য নিজের ভাবনাও লিখবেন কিন্তু কালে তা গৃহীত নাও হতে পারে, ওর নারী চিন্তার পুরাতনী ভাব লোকে সমালোচনা করবে যদিও এর সত্য ও বাস্তব রূপ উপেক্ষা করা যাবে না।
জ্যোতি ঠাকুরের সাথে সঞ্জয়ের আলোচনা
অভিভূত জ্যোতি ঠাকুরের দিকে চেয়ে সঞ্জয় বলেন, চিত্রাঙ্গদা অসাধারণ কাব্য, গীতিধর্মী কাব্য নাটক। জ্যোতি বলেন, অদৃষ্ট দ্রষ্টা, রবি তার জীবনকালে যা যা রচনা করবেন তার সব পাঠ শেষ করেছেন! শোনো জ্যোতি, দিব্যদৃষ্টিসম্পন্নের জন্য এ কোনো বিস্ময়কর কাজ নয়। তবে আমি তোমাকে শুধু বলছি পুরাণের আখ্যান ব্যবহার করে নিজের স্বাধীন কাব্যবোধ থেকে কী সব রসসৃষ্টি করেছেন বা করবেন তার কিছু নমুনা।
আদি কবিদের চিন্তা ও কাহিনীকে রবি কাব্য নির্মাণের প্রতিভার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেখেই মূলত আমি ঠিক করে নিয়েছি রবিই সেই কবি এই সঞ্জয়ের জীবনকে যে ব্যাসদেবের বর থেকে আরও বড় বরে নাটক করে তুলতে পারবেন। তুমি দেখো এই চিত্রাঙ্গদা নাট্য ভাবনাটি তাঁর মনে কীভাবে তৈরি হলো! প্রথমে সে জীবনের সত্য, বাস্তবতার গভীর একটি বোধ দ্বারা আলোকিত হলো, তারপর সেই আলোকনকে কাব্যে প্রকাশ করার ভাবনায় চিত্রাঙ্গদা উপাখ্যানটি তার মাথায় আসে।
মহাভারতের চিত্রাঙ্গদা ও রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি
মহাভারতের চিত্রাঙ্গদা উপাখ্যানটি তেমন বড় কিছু নয়। সংস্কৃত তেরটি শ্লোকে যে আখ্যান বর্ণিত হয়েছে তাতে আত্মসচেতন, বোধোজ্জ্বল কোনো রমণীর গল্প সেখানে নেই। মহাভারতের আদি পর্বের অর্জুন বনবাস পর্বাধ্যায়ে চিত্রাঙ্গদার খবর আমরা জানি। যাই হোক, এখন রবির কাছ থেকেই শোনো ‘চিত্রাঙ্গদা’ সূচনার কথা—
অনেক বছর আগে রেলগাড়িতে যাচ্ছিলাম শান্তিনিকেতন থেকে কলকাতার দিকে। তখন বোধ করি চৈত্র মাস হবে। রেললাইনের ধারে ধারে আগাছার জঙ্গল। হলদে বেগনি সাদা রঙের ফুল ফুটেছে অজস্র। দেখতে দেখতে এই ভাবনা এল মনে যে আর কিছুকাল পরেই রৌদ্র হবে প্রখর, ফুলগুলি তাদের রঙের মরীচিকা নিয়ে যাবে মিলিয়ে— তখন পল্লীপ্রাঙ্গণে আম ধরবে গাছের ডালে ডালে, তরুপ্রকৃতি তার অন্তরের নিগূঢ় রস-সঞ্চয়ের স্থায়ী পরিচয় দেবে আপন অপ্রগলভ ফল সম্ভারে।
সেই সঙ্গে কেন জানি হঠাৎ আমার মনে হলো সুন্দরী যুবতী যদি অনুভব করে যে সে তার যৌবনের মাঝা দিয়ে প্রেমিকের হৃদয় ভুলিয়েছে তাহলে সে তার সুরূপকেই আপন সৌভাগ্যের মুখ্য অংশে ভাগ বসাবার অভিযোগে সতিন বলে ধিক্কার দিতে পারে। এ যে তার বাইরের জিনিস, এ যেন ঋতুরাজ বসন্তের কাছ থেকে পাওয়া বর, ক্ষণিক মোহ বিস্তারের দ্বারা জৈব উদ্দেশ্য সিদ্ধ করবার জন্যে। যদি তার অন্তরের মধ্যে যথার্থ চরিত্রশক্তি থাকে তবে সেই মোহযুক্ত শক্তির দানই তার প্রেমের পক্ষে মহৎলাভ, যুগল জীবনের জয়যাত্রার সহায়। সেই দানে আত্মার স্থায়ী পরিচয়, এর পরিণামে ক্লান্তি নেই, অবসাদ নেই, অভ্যাসের ধূলিপ্রলেপে উজ্জ্বলতার মালিন্য নেই। এই চারিত্রশক্তি জীবনের… সম্বল, নির্মল প্রকৃতির আশু প্রয়োজনের প্রতি তার নির্ভর নয়। অর্থাৎ এর মূল্য মানবিক, এ নয় প্রাকৃতিক।
এ ভাবটাকে নাট্য আকারে প্রকাশ-ইচ্ছা তখনই মনে এল, সেই স
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
রবীন্দ্রনাথের চিত্রাঙ্গদা নাটকটি কোথায় প্রকাশিত হয়েছিল? রবীন্দ্রনাথের চিত্রাঙ্গদা কাব্য নাটকটি তাঁর কর্মরাজির অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। এটি মহাভারতের চিত্রাঙ্গদা উপাখ্যানের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
মহাভারতের মূল চিত্রাঙ্গদা ও রবীন্দ্রনাথের চিত্রাঙ্গদার মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী? মহাভারতের মূল চিত্রাঙ্গদা উপাখ্যানটি সংস্কৃত তেরটি শ্লোকে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে আত্মসচেতন রমণীর গল্প তেমন বিস্তারিত নয়। রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিতে চিত্রাঙ্গদা আত্মসম্মানবোধ ও আত্ম-স্বাতন্ত্র্যের গভীর অনুভূতি নিয়ে জীবনযাপন করেন।
রবীন্দ্রনাথ চিত্রাঙ্গদা নাটকটি কীভাবে সৃষ্টি করেছিলেন? রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতন থেকে কলকাতার দিকে রেলগাড়িতে যাওয়ার সময় একটি ভাবনা থেকে চিত্রাঙ্গদা নাটকের মূল ধারণা পেয়েছিলেন। তিনি যৌবনের সুন্দরী যুবতীর মনস্তত্ত্ব থেকে এই নাটকের সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন।
প র ণ ক ত ন ন-এর মতে রবীন্দ্রনাথ কেন পৌরাণিক কাহিনী পুনর্নির্মাণ করেছিলেন? র
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is প র ণ ক ত ন ন?
প র ণ ক ত ন ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does প র ণ ক ত ন ন matter?
প র ণ ক ত ন ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.