বরিশালে সিভিল সার্জন নিয়োগ নিয়ে তীব্র উত্তেজনা: ২৪ ঘণ্টার শেষ সীমা
Banglabeacon.com – বর শ ল স ভ ল স – বরিশালের স্বাস্থ্যখাতে নিয়োগ বিতর্ক ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। চতুর্থ দিনের মতো ২৯ জুলাই বুধবারও বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ছাত্র-জনতা। সিভিল সার্জন ডা. মনিরুজ্জামানের যোগদান ইস্যুতে এই প্রতিবাদ চলছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি ও কর্মসূচি
২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন। তারা জানান, এই সময়ের মধ্যে ডা. মনিরুজ্জামানকে অপসারণ করা না হলে বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। প্রয়োজনে মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এটি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। বরিশালের স্বাস্থ্য প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিতর্কমুক্ত নিয়োগ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল দাবি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সাব্বির হোসেন সোহাগ এই কথাগুলো বলেন। আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক লাবণ্য রহমান বলেন, এটি বরিশালের মানুষের সুচিকিৎসার অধিকার রক্ষার আন্দোলন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠ ছাড়ব না।
অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দক্ষিণাঞ্চলের স্বাস্থ্য প্রশাসনে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের সংস্কৃতি চলছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ও সিভিল সার্জন নিয়োগে প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মশিউল মুনীরকে সরানোর চেষ্টার অভিযোগও তোলেন তারা।
সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ
স্বাস্থ্য খাতের এই অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বরিশালের সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী নেতারা। নগর চিন্তাবিদ কাজী মিজানুর রহমান বলেন, বিভাগ ঘোষণার দুই যুগ পরও বরিশাল পূর্ণাঙ্গ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। স্বাস্থ্য প্রশাসনে অভিজ্ঞ ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ এখন সময়ের দাবি।
বরিশালের উন্নয়ন যেন রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বাধাগ্রস্ত না হয়। প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নিয়েও দক্ষ ও স্বচ্ছ কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করা উচিত।
ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব খান এই মন্তব্য করেন।
বর্তমান সিভিল সার্জনের মতামত
এ বিষয়ে বর্তমান সিভিল সার্জন ডা. মনজুর এলাহী মুঠোফোনে বলেন, এই আন্দোলনের সঙ্গে আমার কোনো স্বার্থ নেই। সরকারি নিয়ম মেনে নতুন যিনি আসবেন, তাকে দায়িত্ব হস্তান্তরের অপেক্ষায় আছি। খুব শিগগির আমার ঢাকার মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগদানের কথা রয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রের তথ্য
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, বরিশালের সিভিল সার্জন পদ নিয়ে রাজনৈতিক দুটি পক্ষের দ্বন্দ্বের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে নতুন একজনের নাম বিবেচনায় রয়েছে। এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই এই সংকটের সমাধান হতে পারে।
