বরিশালে পরিবহন সংকট গুরুতর হয়েছে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণের পর
বর শ ল ইজ ব ইক ন – বরিশাল নগরীতে সিটি করপোরেশন (বিসিসি) ইজিবাইক ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে তিন মাস আগে ঘোষণা করা হয়েছিল পুরোনো ভাড়া বহাল রাখার ব্যবস্থা, কিন্তু সেটি মানছেন না চালকদের বড় অংশ। সোমবার নগর ভবনে আয়োজিত জরুরি সভায় বিসিসি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন ঘোষণা করেন যে কোনো ভাড়া বাড়ানো হবে না এবং আগের নিয়ন্ত্রণের মূল্য কার্যকর থাকবে।
এই ঘোষণার পর নবগ্রাম সড়কে শিক্ষার্থীদের অবরোধ করা হয়েছে। তারা জানান যে তাদের কোনো নিজস্ব আয় নেই। যদি হুটহাট ভাড়া বাড়ানো হয়, তাদের পড়াশোনা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
‘আমাদের কোনো নিজস্ব আয় নেই। হুটহাট ভাড়া বাড়ালে আমাদের পড়াশোনা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।’
অন্যদিকে চালকদের দাবি, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের পরিস্থিতিতে পুরোনো ভাড়ায় টিকে থাকা অসম্ভব। চালক মহসিন ও মাইনুল বলেন, প্রতিদিন মালিককে ৬০০-৭০০ টাকা জমা দিয়ে তাদের হাতে কিছুই থাকে না। গাড়ির সংখ্যা বাড়ায় যাত্রী কমে গেছে।
‘প্রতিদিন মালিককে ৬০০-৭০০ টাকা জমা দিয়ে আমাদের হাতে কিছুই থাকে না। গাড়ির সংখ্যা বাড়ায় যাত্রীও কমে গেছে।’
ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে। নগরীর বিভিন্ন মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা জানান, ভাড়া নিয়ন্ত্রণের কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা তারা পাননি। কিন্তু বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ বলেন, ‘সিদ্ধান্ত হয়েছে কোনো ভাড়া বাড়বে না। ট্রাফিক বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আমি আবারও বিষয়টি তদারকি করছি।’
এদিকে ইজিবাইক চালকদের প্রতিনিধি নির্বাচনে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ‘রিকশা ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ’ অভিযোগ করেছে যে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে সাবেক মেয়রের ঘনিষ্ঠ একটি সংগঠনকে নিয়ে বৈঠক করেছে বিসিসি। সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের দাবি, এ ব্যবস্থায় মাঠপর্যায়ের বাস্তব প্রতিফলন ঘটেনি এবং সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েছে।
সব মিলিয়ে ভাড়া নির্ধারণ, অবৈধ ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমিক প্রতিনিধিত