আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি মৌলিক অধিকার
আদ ব স দ র স ব - জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের আদিবাসীরা আশা করেছিল যে বৈষম্য দূর হয়ে তাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যে লাউ সে
Table of Contents
আদিবাসী শব্দটির ঐতিহাসিক ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন
Banglabeacon.com – আদ ব স দ র স ব – জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের আদিবাসীরা আশা করেছিল যে বৈষম্য দূর হয়ে তাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যে লাউ সে কদুই রয়ে গেছে। আদিবাসী শব্দটি নিয়ে দেশের বিভিন্ন মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং রাষ্ট্র আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আপত্তি প্রকাশ করছে। কিন্তু এই আপত্তির কারণ কী?
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও ঐতিহাসিক দলিল
পৃথিবীর শান্তির সংঘ হিসেবে পরিচিত জাতিসংঘ আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিল এবং পৃথিবীর প্রায় সব রাষ্ট্রই এতে সমর্থন জানিয়েছিল। জাতিসংঘের রিপোর্টকারী মি. মাইগেইল এলফনস কভো তার গবেষণা পত্রে ‘স্টাডি অব দি প্রোব্রেল্মস অব সিক্রিমিনেশন এগেইনস্ট ইন্দিজিনিওস পপুলেশন’-এ সকল জনগোষ্ঠিকে আদিবাসী হিসেবে উল্লেখ করে স্বীকার করেছেন।
ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের অনেক সরকারি দলিলে আদিবাসী শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে বা হচ্ছে। ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধি এই অঞ্চলের একটি ঐতিহাসিক শাসনতান্ত্রিক ও আইনি দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। উক্ত শাসন বিধির ৪, ৬, ৩৪ ও ৫০ প্রভৃতি ধারায় আদিবাসী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের আদিবাসী ও উপজাতিদের জন্য চাকরির বয়স সীমার স্বাভাবিক বয়স সীমার তুলনায় দশ বছর এবং শ্রম সাধ্য কাজের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে।
সরকারি দলিল ও পরিপত্রে আদিবাসী শব্দের ব্যবহার
সেই শাসন বিধি তফসিলে আইনের মধ্যে দি ইন্দিজিনিও ইনকাম টেক্সট অ্যাক্ট অব ১৯২২, দিন ইন্দিজিনিও ফাইনেন্স টেক্সট অ্যাক্ট অব ১৯৪১, দি ফরেষ্ট অ্যাক্ট অব ১৯৭২ প্রভৃতির ক্ষেত্রেও আদিবাসী শব্দটি উল্লেখ ছিল। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা স্মারক নং- সংস্থাপন (এডি- ২)-৩৯/৯১-১৪৩ তারিখ-১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১। আদিবাসী জনগোষ্ঠির কনভেনশনে ১৬৯ প্রসঙ্গে বিশেষ বিভাগে পরিপত্রেও আদিবাসী শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
১৯৯৫ সালে জাতীয় সংসদে গৃহীত ১২নং আইনেও এ আইনের কার্যকারিতার প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক ১২ জুলাই ১৯৯৫ লেখা সরকারি পরিপত্রেও আদিবাসী শব্দটি উল্লেখ করা হয়। এমনকি ২০০০ সালের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে জাতীয় আদিবাসী সমন্বয় কমিটির প্রকাশনা ‘সংহতি- ২০০০’ এ প্রদত্ত বাণীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আদিবাসী শব্দটি উল্লেখ করেছেন।
ওহফরমবহুং থেকে আদিবাসী: একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা
আন্তর্জাতিকভাবে ওহফরমবহুং একটি জেনেরিক শব্দ হিসেবে গৃহীত হয়েছে। ২০০৭ সালে এটা গৃহীত হয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে। আমাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ব্রিটিশ আমল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে ওহফরমবহুং ছিল, সমতলেও ছিল। এর বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে যখন আদিবাসী বলা হলো, তখন তো কেউ কোনো সমস্যার কথা বলেনি।
বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমলে ১৯৭২ সালে ওহফরমবহুং ধরনের আদিবাসী ও উপজাতিদের অধিকার সংক্রান্ত আইন অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সরকার। সেটা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই। তখন কেউ সমস্যা দেখেনি। এখন কেন দেখছে?
আইএলও কনভেনশন ও বাংলাদেশের দায়িত্ব
আশির দশকে জাতিসংঘে লিখিতভাবে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে যে আদিবাসী রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিপ্রেক্ষিতেও এটা বলা হয়েছে। গত কয়েক সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে প্রধানমন্ত্রীরা যে শুভেচ্ছাবাণী পাঠিয়েছেন সেখানেও আমাদের আদিবাসী বলে সম্বোধন করা হয়েছে।
সমস্যা দেখা দিয়েছে ২০১০ সালের পর থেকে। জাতিসংঘের স্পেসিলাইজ এজেন্সি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ১৯৫৭ সালের ইন্দিজিনিওস অ্যান্ড ট্রাবল পপুলেশন কনভেনশন-১ (১০৭নং) অনুষ্ঠিত হয়। সেই কনভেনশনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, আদিবাসী জনগোষ্ঠির সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, পরিবেশ বিকাশের বৃদ্ধি সাধন ও জীবন মানোন্নয়নের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো দায়িত্ব পালন করবে।
অথচ বাংলাদেশ অন্য দেশের মতো জাতিসংঘের অন্যতম সদস্য হিসেবে রয়েছে। সেই বাংলাদেশ সরকার এখন আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে উল্টো তাদের ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি’ বলে হচ্ছে। তাতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে কিনা সন্দেহ।
পরিসংখ্যান ও বর্তমান পরিস্থিতি
এছাড়াও পাঠ্যপুস্তকে আদিবাসী সম্পর্কিত গ্রাফিতি সংবলিত মুছে ফেলানোর মতোও অপকর্ম করা হয়েছিল। যা ঢাকার রাজপথে আদিবাসী ছাত্রদের উপর হামলা করা হয়েছিল। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস)-এর অনুযায়ী প্রথম ডিজিটাল ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’-এর প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বাধিক ৯ লাখ ৯০ হাজারের বেশি নৃগোষ্ঠীর বসবাস এবং সর্বনিম্ন বরিশাল বিভাগে।
আদিবাসীদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ দাবি
এই দেশের সব মানুষের সমান অধিকার এ কথাটি তখনই আমরা বিশ্বাস করব যখন ‘পার্বত্য চুক্তি’ যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে। খাগড়াছড়ির ভাইবোনছাড়া ত্রিপুরা আদিবাসী মা-বোন ওই কিশোরী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হবে না (২৭ জুন ২০২৫)। সাঁওতালকে তার বাড়ি সামনে উন্নয়নের নামে ইকো নামে পার্ক দেখতে হবে না।
কল্পনা চাকমার মতো সহজ-সরল কোন আদিবাসী মেয়ে নারী অপহৃত হবেন না, এমনকি আলফ্রেড সরেনের মতো কোন যোদ্ধা হত্যার স্বীকার হতে হবে না। লংগদু সুজাতা চাকমার মতো অকালে জীবন দিতে হবে না। আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is আদ ব স দ র স ব?
আদ ব স দ র স ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does আদ ব স দ র স ব matter?
আদ ব স দ র স ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.