রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডায়ালাইসিস সেবা বিপন্ন
ম য় দ ত ত র ণ – রংপুর বিভাগের সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবা সম্পন্ন হতে শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে। প্রাথমিক কাজে সরবরাহ করা হয়েছিল ৩৯টি মেশিন, যার মধ্যে ১৩টি আগেই অকার্যকর হয়ে গেছে। বর্তমানে বাকি ২৩টি মেশিন প্রায় ১৬ বছর ধরে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার আয়ুষ্কাল ৫ বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে। এদিকে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, তার ফলে হাসপাতালে সামান্য দুর্দান্ত সমস্যা দেখা দিয়েছে।
হাসপাতালে সর্বমোট ২৬টি মেশিন রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে ৩টি দীর্ঘ সময় ধরে বিকল থাকছে। কিডনি রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ৪ ঘণ্টার চিকিৎসা সম্পন্ন হতে পারছে না বিপর্যয় সম্পন্ন মেশিনগুলো। ফলে অসংখ্য দরিদ্র রোগীদের জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন শুধুমাত্র ৭২ জন রোগী সেবা পাচ্ছেন, যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১০০ জনের বেশি রোগী এসে অপেক্ষা করছেন। এই সমস্যার কারণে অনেকে ফেরত আসতে বাধ্য হয়েছেন।
ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডের ইনচার্জ আনিসুর রহমান জানান, “২৩টি মেশিন এখন মেয়াদোত্তীর্ণ। বিপন্ন অবস্থায় কর্মকর্তারা কোনোমতে সেবা চালাচ্ছেন। রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, আমরা সবাইকে সম্পূর্ণ চিকিৎসা দিতে পারছি না।”
সার্বিক ভাবে প্রতিটি ডায়ালাইসিস সেশনে ৪ ঘণ্টা প্রয়োজন হয়, কিন্তু অব্যাহত মেশিনগুলো এক-দুই ঘণ্টা চলার পর মাঝেমধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। সেই কারণে অনেক সময় রোগীদের ৩ বা সাড়ে ৩ ঘণ্টায় বিদায় করা হচ্ছে। এতে চিকিৎসার অপূর্ণতা ঘটছে এবং রোগীরা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
সরকারি হাসপাতালে একটি সেশনের জন্য ২০ হাজার টাকা খরচ হয় ৬ মাসের জন্য। এর বিপরীতে বেসরকারি ক্লিনিকে একবার ডায়ালাইসিস করাতে খরচ হয় ৭-৮ হাজার টাকা। তাই দরিদ্র মানুষের জন্য হাসপাতাল একমাত্র ভরসার স্থান। কিন্তু সরঞ্জামের অভাবে এখন কোনও সুবিধা পেতে পারছেন না অনেকে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আবদুল মোকাদ্দেম সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, “ডায়ালাইসিস মেশিনের সংকট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের জন মাত্র এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।”