পেলের পায়ের জাদুতে থেমে গিয়েছিল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ!
প ল র প য় র জ – ফুটবলের সম্রাট পেলে যখন নাইজেরিয়ায় পা রাখেন, তখন দুই শত্রুপক্ষ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে দেন। এটি প্রমাণ করেছে যে পেলে কেবল খেলা দেখার জন্য নয়, কিন্তু একটি অনন্য স্থান তৈরি করেছেন যুদ্ধের মাঝে। প্রায় দুই বছর ধরে কূটনীতিকদের সম্মুখে সফলতা পায়নি রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ, কিন্তু পেলের প্রবেশে দুই পক্ষের মধ্যে ঘটে যায় আশ্চর্যজনক কৌশল।
১৯৬৯ সালে নাইজেরিয়ায় জ্বালানী জনগোষ্ঠী বিচ্ছিন্ন হয়ে বিয়াফ্রা প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করে। কেন্দ্রীয় সরকার তা মেনে নিতে রাজি নয়। গৃহযুদ্ধের সময় প্রায় ১০ লাখ মানুষের প্রাণ হারানো হয়। তখন কোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় না যুদ্ধ নিয়ে সমাধান খুঁজে। তখন হাজির হন পেলে।
বিশ্বমাধ্যম খবর দেয়- যুদ্ধবিরতির জন্য দুই শত্রুপক্ষ রাজি হয় কেবল পেলের খেলার জন্য।
২০০৫ সালে টাইম ম্যাগাজিনে একটি বিশ্লেষণ আসে যে, কূটনীতিকরা যুদ্ধের সমাপ্তি পায়নি, কিন্তু পেলে সেই চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে দেন। তবে ইতিহাসবিদ জোসে পাওলো ফ্লোরেঞ্জানোর গবেষণা বলছে আরেক কথা। সান্তোসের খেলা বসে আছে লাগোস ও বেনিন সিটিতে। তখন যুদ্ধ চলছে না সেই অঞ্চলে। যুদ্ধবিরতির প্রয়োজন ছিল না। পেলেকে ব্যবহার করা হয় প্রোপাগান্ডা টুল হিসেবে।
নাইজেরিয়া সরকার চান দেশে যুদ্ধ চললেও স্বাভাবিক জীবন অবিচ্ছিন্ন থাকে। মানুষ ফুটবল খেলছে। সেই উদ্দেশ্যে সান্তোসকে আবার বেনিন সিটিতে ফিরিয়ে আনা হয়। স্থানীয় গভর্নর স্যামুয়েল ওগবেমুডিয়া পাবলিক হলিডে ঘোষণা করেন। যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে ব্রিজ খুলে দেওয়া হয়। পেলের সতীর্থ এডুর জানান যে দল যুদ্ধ বন্ধ করবে এমন কথা কেউ বলেনি।
তবে একটি সাক্ষী আছেন যারা স্বপ্ন দেখেন। স্থানীয় ফুটবলার গডউইন ইজিলেইন বিবিসিকে বলেন, “ম্যাচের দিন কেউ আর বন্দুকের কথা ভাবেনি।” পেলের দল যখন খেলা শেষে বিমানে উঠে যায়, তখন সেই ঘটনার প্রমাণ হয়। গুলির শব্দ আবার ভেসে আসে। যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।
আসলে কী ঘটেছিল? ইতিহাসে সেটি বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয়। পেলের আত্মজীবনীতে ১৯৭৭ সালে তিনি নিশ্চিত নন যে সব কিছু সত্যিই ঘটেছিল। তিনি লেখেন, “নাইজেরিয়ানরা বিয়াফ্রানদের বাড়ি হামলা না করার জন্য ব্যবস্থা করেছিল।” এ