Bangladesh

উচ্চশিক্ষিত ও নন-ক্যাডার শিক্ষকদের যোগ্যতার চরম অবমূল্যায়ন | সংবাদ

উচ চশ ক ষ ত ও নন - দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা নানামুখী অনিয়ম, বৈষম্য এবং নীতিগত ত্রুটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার ভিতকে

Desk Bangladesh
Published June 27, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments

উচ চশ ক ষ ত ও নন – দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা নানামুখী অনিয়ম, বৈষম্য এবং নীতিগত ত্রুটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার ভিতকে ক্রমশ দুর্বল করে তুলছে। শুরুতে নামমাত্র শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ, পরবর্তীতে যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে ঢালাওভাবে বিদ্যালয় জাতীয়করণ এবং বর্তমানে দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠ থেকে পাস করা উচ্চশিক্ষিত শিক্ষকদের বেতন ও বদলি বৈষম্য এই খাতকে এক চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে, বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই, ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং কর্মক্ষেত্রে তীব্র মানসিক যন্ত্রণা এখন প্রকাশ্য রূপ ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিক শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং বঞ্চিত শিক্ষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকেরা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সূচনালগ্নে সামান্য যোগ্যতা (যেমন চতুর্থ শ্রেণি পাস) দিয়ে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করানো হত। পরবর্তীতে এই যোগ্যতা ধাপে ধাপে এসএসসিতে উন্নীত করা হয়। একপর্যায়ে দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়াতে ‘কমিউনিটি বিদ্যালয়’ চালুর অনুমোদন দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে এগুলোকে সরকারি করা হয়। এসকল বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল কেবল মাধ্যমিক (এসএসসি) পাস। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের প্রায় ২৬ হাজার রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একসঙ্গে সরকারি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয়করণ হওয়া এসকল বিদ্যালয়ের সিংহভাগ শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল নামমাত্র এবং অনেক বিদ্যালয়েই পর্যাপ্ত ছাত্র-ছাত্রী ছিল না। বড় বড় ভবন ও সরকারি অর্থ বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানেও এই বিদ্যালয়গুলোর অনেকটিতেই শিক্ষার্থীর উপস্থিতি শূন্যের কোঠায়। আরও অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সরকারের নির্দেশনায় এই সকল শিক্ষকদের অনেকেই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো রকমে স্নাতক (বিএ) পাস সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে প্রধান শিক্ষকের পদ টিকিয়ে রেখেছেন। এমনকি অ্যাকাডেমিক ও দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার জন্য অনেকেই বাইরে থেকে লোক ভাড়া করে কাজ চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, সাবেক সরকারের সময়েই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে ৩৪তম বিসিএস-এ উত্তীর্ণ ও সুপারিশপ্রাপ্ত উচ্চশিক্ষিত (বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রিধারী) প্রার্থীদের নন-ক্যাডার পদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাবা-মায়ের কষ্টার্জিত টাকায় দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে পাস করা এসব মেধাবী তরুণ অন্য কোনো প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ না পেয়ে বাধ্য হয়ে এই পদে যোগদান করেন। কিন্তু যোগদানের পর থেকেই তারা নানা বৈষম্যের শিকার হন। পিএসসির বিধিমালা ও নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এসব নন-ক্যাডার প্রধান শিক্ষকগণ মহামান্য হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়েছেন। কিন্তু চূড়ান্ত রায়ের পরও তারা তাদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা পাননি বলে অভিযোগ আছে নানা ভুক্তভোগীর। এদিকে, চাকরির বিধিমালা ও বিভাগের অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার কারণে এই উচ্চশিক্ষিত প্রধান শিক্ষকগণ চরম পারিবারিক ও মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। অনেক শিক্ষকই তাদের মা-বাবার সাথে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে পড়াশোনা ও বড় হয়েছেন। কিন্তু চাকরিতে যোগদানের কারণে তাদেরকে স্থায়ী ঠিকানায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে পড়ে থাকতে হচ্ছে। একদিকে তারা বৃদ্ধ মা-বাবার সেবা ও স্নেহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে নিজেরাও চরম একাকীত্ব ও মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন। বিভাগীয় বদলির কোনো সহজ বা কার্যকর সুযোগ না থাকায় মেধা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তারা একপ্রকার অবরুদ্ধ জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এবং শিক্ষার মান বাড়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ডিগ্রিধারীদের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বেতন কাঠামোর বৈষম্য এখানে প্রকট। অভিযোগ উঠেছে, একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা একজন শিক্ষার্থী যখন প্রশাসনে সচিব পদমর্যাদায় যাচ্ছেন বা অন্য প্রথম শ্রেণির পদে কাজ করছেন, তখন প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক বা নন-ক্যাডার প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরতরা চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। কোনো রকমে মাধ্যমিক পাস করে চাকরিতে ঢোকা বা উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করা একজন শিক্ষক এবং বিসিএস উত্তীর্ণ একজন উচ্চশিক্ষিত প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেডের ব্যবধান অত্যন্ত বৈষম্যমূলক, যা উচ্চশিক্ষার অবমূল্যায়ন ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই দীর্ঘমেয়াদী অনিয়ম ও বৈষম্যের অবসান চান সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হলে সবার আগে প্রাথমিক শিক্ষার কারিগরদের মানসিকভাবে শান্তিতে রাখতে হবে। সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগী শিক্ষকদের আকুল আবেদন, বর্তমান সরকার যেন অতি দ্রুত এই সকল অনিয়ম খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত বা পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে। বিশেষ করে বিসিএস নন-ক্যাডার শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার প্রদান, বিভাগীয় বদলির সুযোগ উন্মুক্ত করা এবং বেতন গ্রেডের বৈষম্য দূরীকরণে প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সংগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতকে রক্ষা করতে জরুরি হস্তক্ষেপ গ্রহণ করেন। আরো পড়ুন ফুটবলের উৎস ২৩০০ বছর আগে চীনে

Leave a Comment