বিএনপি সরকার নতুন বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার বিধান গ্রহণ
ক ল ট ক হব স দ – বিএনপি সরকার, ক্ষমতায় ফিরে আসার পর দুই দশক পূর্ণ হওয়ার পর, তাদের প্রথম বাজেটে অপ্রদর্শিত আয়কে বৈধ করার বিধান রেখেছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে এই বাজেট পেশ করেন। বাজেট বক্তৃতায় এই বিধানটি স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি, তবে এটি সরাসরি অর্থবিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ক্রেতার ও বিক্রেতার সুবিধা
অর্থবিল অনুযায়ী, জুলাই থেকে পরবর্তী জুন মাসের মধ্যে জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনাবেচার ক্ষেত্রে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রয়েছে। ক্রেতার জন্য বিশেষ বিধান রয়েছে: কোনো করদাতা যদি দলিলমূল্য অপেক্ষা বেশি দামে জমি বা বিল্ডিং কিনে থাকেন, তবে সেই অতিরিক্ত অর্থের ওপর তিনি নিয়মিত করহারে আয়কর দিতে পারবেন। সেটি বৈধ হবে।
বিক্রেতার জন্য প্রাপ্তি মূল্যের বেশি অর্থের ওপর কর দিতে হবে। অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি বা আদালতে মামলা চলা ক্রেতার জন্য সুযোগ নেওয়া যাবে না।
‘এই আইন বা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য কোনো আইনে যাই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক স্বপ্রণোদিতভাবে প্রদর্শিত বিনিয়োগ বা ক্রয় বা প্রাপ্তির উৎস এবং এর বিপরীতে পরিশোধিত করের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন বা কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।’
অর্থবিলে উল্লেখ করা হয়েছে, কালো টাকা সাদা করলে আর এর উৎস নিয়ে কেউ কিছু জানতে চাইতে পারবেন না। এটি কোনো আইনি জটিলতার সৃষ্টি করবে না। যাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আদালতে মামলা চলছে বা অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তাদের এই সুযোগ পাবে না।
পূর্বে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই বিধান ছিল, যেখানেও উৎস নিয়ে প্রশ্ন না তুলার ব্যবস্থা ছিল। গত বছর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সংসদে এই সুযোগ রেখেছিল, কিন্তু সমালোচনার মুখে তা বাদ দেওয়া হয়। এবার বিএনপি সরকার এই বিধানটি ফিরিয়ে আনেন।