শ্রীমঙ্গলের নতুন আকর্ষণ মনোরম পাইন বন
শ র মঙ গল র নত ন – শ্রীমঙ্গল উপজেলার হরিণছড়া চা–বাগান এলাকায় অবস্থিত মনোরম পাইন বন এখন পর্যটনপিপাসুদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। চা–বাগানের আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে সেখানে পৌঁছতে হয়। যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অপূর্ব দৃশ্যপট স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে অপরিচিত অনুভূতি জাগায়।
চারপাশে সবুজ চা–গাছের সারির মাঝখানে হঠাৎ করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা পাইন গাছের সারি সবার মনে অদূর কোনো অরণ্যের আবহ তৈরি করে। বাতাসে পাইন পাতার শব্দ, নিস্তব্ধতা আর পাখির ডাক মিলিয়ে এখানে হয়ে উঠছে স্বপ্নময় মনোরমতা। বর্ষাকালে সবুজের মর্ম আরও গভীর হয়ে ওঠে, শীতের সকালে কুয়াশা একটি রহস্যময় ছায়া তৈরি করে।
পরিচিতি এবং পরিবেশ সংরক্ষণ
পূর্বে এই জায়গাটি খুব বেশি পরিচিত ছিল না। দুর্গম অবস্থান ও সীমিত যোগাযোগের কারণে কেবল আশপাশের মানুষ এর সৌন্দর্য জানতেন। কিন্তু ইউটিউবার, ট্রাভেল ভ্লগার ও আলোকচিত্রীদের সাহায্যে এখন পাইন বন দেশে পরিচিতি পেয়েছে।
আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটিতে অপেক্ষাকৃত বেশি পর্যটক এখানে আসতে পারে। চাঁদের গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেলে সহজেই পৌঁছানো যায় পাইন বনের কাছাকাছি। একই সফরে হাইল হাওর, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও নূরজাহান টি গার্ডেন সহ আশপাশের পাহাড়ি চা–বাগান ঘুরে দেখা যায়।
“ছবিতে দেখে যতটা সুন্দর মনে হয়েছিল, বাস্তবে এসে তার চেয়েও বেশি মুগ্ধ হয়েছি। মনে হচ্ছে যেন বাংলাদেশের বাইরে কোনো পাহাড়ি অরণ্যে দাঁড়িয়ে আছি,” বলেন ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা এক পর্যটক।
স্থানীয় সূত্র অনুসারে পাইন বনে প্রবেশের জন্য চা–বাগান কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। পর্যটন ব্যক্তিদের মনে করা হচ্ছে পাইন বন অনুপম ইকো–ট্যুরিজম স্পট হিসেবে গড়ে উ�ঘাটে যেতে পারে। তাদের মতে, প্লাস্টিক বর্জ্য ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
সবুজের শহর শ্রীমঙ্গলে প্রকৃতি সবার জন্য নতুন আকর্ষণ তৈরি করে। আর সেই রূপের ভাঁজে নির্জন, নান্দনিক ও অপার্থিব সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাইন বন—যা ধীরে ধীরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।