Bangladesh

ক্ষেতমজুরদের মজুরি, সেকাল-একাল

ক ষ তমজ রদ র মজ র - কৃষি খাতে ক্ষেতমজুরদের মজুরি নিয়ে আলোচনা করলে বর্তমান ও অতীতের পার্থক্য স্পষ্ট হয়। বর্তমান সময়ে যান্ত্রিক চাষাবাদ ও যানবাহনের বিকাশ

Desk Bangladesh
Published August 16, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Techtaranga.com_17868070414899
Foto : John Williams - banglabeacon.com
Table of Contents
  1. ক্ষেতমজুরদের মজুরি: সেকাল থেকে একালের পরিবর্তন
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

ক্ষেতমজুরদের মজুরি: সেকাল থেকে একালের পরিবর্তন

Banglabeacon.com – ক ষ তমজ রদ র মজ র – কৃষি খাতে ক্ষেতমজুরদের মজুরি নিয়ে আলোচনা করলে বর্তমান ও অতীতের পার্থক্য স্পষ্ট হয়। বর্তমান সময়ে যান্ত্রিক চাষাবাদ ও যানবাহনের বিকাশ ঘটেছে। আগের মতো হালচাষ করতে হয় না। পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর দিয়ে স্বল্প সময়েই জমি কর্ষণ করা সম্ভব। শ্যালো ইঞ্জিন ও ডিপ টিউবওয়েল দিয়ে সেচ দেওয়া হয়। মহিষের গাড়ি আর মাথা করে বাঁকে করে ফসল বহন করতে হয় না। শ্রমজীবীদের শারীরিক কষ্ট অনেক কমেছে।

কিন্তু ক্ষেতমজুর ও শ্রমিক সংকট এখন কৃষি কাজের জন্য তীব্র। আগে বৃহত্তর রংপুর এলাকা থেকে—কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর এবং নীলফামারী—অনেক ক্ষেতমজুর পাবনা, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলায় আসতো। এখন আর তারা শ্রম বিক্রি করতে আসে না। আশির দশকেও এসেছে এবং নব্বই দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত পেঁয়াজ লাগানোর মৌসুমে রংপুরের শ্রমিকরা চলনবিলের বিস্তীর্ণ এলাকায় আসতো। এখন আর তারা আসে না। সেখানেও শ্রমিক সংকট। বিশেষ করে ক্ষেতমজুর সংকট।

সেকালের মজুরি ও জীবনযাত্রা

ষাটের দশকে একজন ক্ষেতমজুরের মজুরি কত ছিল? আমি ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত দেখেছি, একজন ক্ষেতমজুরের দিনমান শ্রমের মজুরি ছিল বারো আনা থেকে এক টাকা। এক টাকা তখন ১ কেজি চাউল, এক সের দুধ এবং শাক সবজি কেনা যেতো। তাতে তিনজনের সংসারে খাবার খরচ হতো। অন্যান্য সাংসারিক প্রয়োজন মেটানো যেতো না। কাপড়, ওষুধের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের জন্য ধার-কর্জ করতে হতো।

আর সেই ধার-কর্জ সংগ্রহ করতে দ্বারস্থ হতে হতো অবস্থাপন্ন গৃহস্থের কাছে। ঋণ নিতে হতো। আর সেই ঋণ পরিশোধ করতে হতো আগাম শ্রম বিক্রি করে। অর্থাৎ আষাঢ়-শ্রাবণ এবং ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে জমিতে কাজ থাকতো না। কৃষি জমি পানিতে তলিয়ে থাকার আবাদ হতো না। কৃষক পরিবারকে বসে থাকতে হতো বন্যার পানি সরে যাওয়া পর্যন্ত। অতএব কর্মহীন বেকার ক্ষেতমজুর জীবিকার তাগিদে আগাম শ্রম বিক্রি করে নগদ অর্থ নিতো গৃহস্থের কাছ থেকে।

কাজের ধরন ও খাদ্যাভ্যাস

আখ থেকে গুড় তৈরি ষাট-সত্তরের দশকে ক্ষেতমজুরদের কাজের ধরন ছিল এখনকার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। কঠোর পরিশ্রম করতে হতো। গৃহস্থ বাড়ি থেকে মাথা করে ধামা কিম্বা বস্তা করে গোবর সার, বীজ নিতে হতো। এখন ভ্যানরিকশা যেমন প্রচুর এবং প্রায় সব গ্রামীণ সড়ক পাকা, তখন তা ছিল না। তখন পণ্য পরিবহনের অন্যতম মাধ্যম ছিল গরু বা মহিষের গাড়ি ও নৌকা।

সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত একজন দিনমজুরকে কাজ করতে হতো। বিনিময়ে তিন বেলা খাবার মিলতো। সে খাবারের মান ছিল খুবই নিম্ন। ধানের চাউলের সঙ্গে ভুরা ও কাউনের চাউল মেশানো ভাত এবং তার সঙ্গে একটু ডাউল কিম্বা মরিচ ভর্তা। আলু এখনকার মতো সহজলভ্য ছিল না। তবে কোনো কোনো কৃষক পরিবারে মাছ মিলতো। মাছ পাওয়া যেতো বিল-বাওর, নদী-নালা ও পুকুরে।

অবস্থাপন্ন গৃহস্থ বাড়িতে তেলের পিঠা (চাউলের আটা ও গুড় দিয়ে তৈরি) এবং পায়েস দেওয়া হতো শ্রমিকদের। সে পায়েস রান্না হতো দুধ ছাড়া, শুধুমাত্র গুড় দিয়ে। সত্তর দশকে দেশে শুরু হয় ইরি ধানের আবাদ। বোরা ধানকেই বলা হতো ইরি। ধানের জমিতে সেচ দেওয়া হতো দোন পদ্ধতিতে। পানি উঠিয়ে জমিতে দিতে সারাদিন লেগে যেতো। কঠিন পরিশ্রমের পর ক্লান্ত কৃষি শ্রমিক সন্ধ্যায় ঘুমিয়ে পড়তো।

অর্থনৈতিক অবস্থা ও উন্নয়ন

যে পরিমাণ পরিশ্রম করতে হতো সেই তুলনায় ক্যালরি যুক্ত খাদ্য জুটতো না। আবার দিনশেষে পারিশ্রমিক যা মিলতো তা দিয়ে সংসার চলতো না। সংসারে নিত্যদিনের অভাব ও অসুখ লেগে থাকতো প্রতিটি কৃষিজীবী পরিবারে। তখন (১৯৬৪ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত) সোনার দাম ছিল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা ভরি। টাকার মান ছিল অনেক। অথচ শ্রমজীবীদের আয় ছিল নগণ্য।

ষাটের দশক ও সত্তরের দশকে গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল খুবই খারাপ। স্বাধীনতার পর দেশে শিক্ষা, চিকিৎসা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। কাছাকাছি এলাকার মধ্যেই হাসপাতাল ও কমিউনিটি হাসপাতাল হয়েছে। গরুর গাড়ি ও নৌকার ব্যবহার আশি শতাংশ কমেছে। এখন রিকশা ভ্যান ছাড়াও যন্ত্রচালিত অটোরিকশা, দেশী প্রযুক্তির নসিমন, করিমন ইত্যাদি যানবাহন ঘরে ঘরে।

জমি আছে যাদের তারা যদি জমিতে নিজে আবাদ না করে তাহলে কৃষি জমি তার জন্য সুখকর না। জমিতে শ্রম দিয়ে ফসল ফলাতে নিজে শ্রম দিতে হবে। শ্রমিক দিয়ে আবাদ করে কোনোভাবেই লাভবান হওয়া যাচ্ছে না। শ্রমজীবীদের জন্য রাষ্ট্রের যেসব সুযোগ সুবিধা দেওয়া উচিত যা আমাদের সংবিধানে বিদ্যমান প্রতিশ্রুতি তা যথাযথভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না। এতে বৈষম্য বাড়ছে। যদিও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উল্লেখ করা হয়েছে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার। সেই অঙ্গিকার থেকে আমরা এখনও বহু দূরে।

বিদেশে দক্ষ কৃষি শ্রমিকের প্রচুর চাহিদা। সরকার সমন্বিত কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশে কৃষি শ্রমিক পাঠাতে পারলে আমরা প্রচুর মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবো।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

প্রশ্ন: সেকালে ক্ষেতমজুরদের মজুরি কত ছিল? উত্তর: ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৮ সালের মধ্যে একজন ক্ষেতমজুরের দিনমান শ্রমের মজুরি ছিল বারো আনা থেকে এক টাকা।

প্রশ্ন: কেন এখন ক্ষেতমজুরদের সংকট দেখা দিয়েছে? উত্তর: যান্ত্রিক চাষাবাদ, শহরায়ন এবং অন্যান্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার ফলে গ্রামীণ শ্রমিকরা কৃষি কাজে কম আসছে।

প্রশ্ন: ক্ষেতমজুরদের জন্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা কী কী? উত্তর: সংবিধানে বিদ্যমান প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিক্ষা, চিকিৎসা, ঋণ সুবিধা এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক

Frequently Asked Questions

What is ক ষ তমজ রদ র মজ র?

ক ষ তমজ রদ র মজ র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ক ষ তমজ রদ র মজ র matter?

ক ষ তমজ রদ র মজ র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment