ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পেও বাড়ছে খেলাপি ঋণ
ক ষ দ র ও ম ঝ - বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন কাব্যগ্রন্থ অন্নদামঙ্গলের একটি বিখ্যাত শ্লোক আছে— নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায় অর্থাৎ, কোনো নগরে বিপদ নামলে সেখানকার
Table of Contents
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে খেলাপি ঋণের উদ্বেগজনক বৃদ্ধি
Banglabeacon.com – ক ষ দ র ও ম ঝ – বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন কাব্যগ্রন্থ অন্নদামঙ্গলের একটি বিখ্যাত শ্লোক আছে—
নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়
অর্থাৎ, কোনো নগরে বিপদ নামলে সেখানকার প্রতিটি মানুষ বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে পারে না; সবাই একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঠিক তেমনি গত ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখের সংবাদপত্রগুলোতে প্রকাশিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন লক্ষ্য করা গেছে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে গত এক বছরে খেলাপি ঋণগ্রহীতার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এক কোটি টাকার কম ঋণ নিয়েছেন এমন খেলাপি ঋণগ্রহীতার সংখ্যা বেড়ে ৪৫ লাখ ৪৩ হাজার ৪৮৫ হয়েছে। অথচ এক বছর আগে, গত মার্চ মাসে এই সংখ্যা ছিল ২১ লাখ ৬৩ হাজার ৩২৩। অর্থাৎ মাত্র এক বছরে প্রায় ২৪ লাখ নতুন ঋণগ্রহীতা খেলাপি হয়েছেন। টাকার পরিমাণের তুলনায় খেলাপি ঋণগ্রহীতার সংখ্যা অনেক বেশি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থারই প্রতিফলন বলে মনে হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের মোট ঋণের ৩৪ শতাংশের বেশি এখন খেলাপি ঋণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, মার্চ মাস শেষে ব্যাংক খাতে এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণের মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে ১৫ শতাংশ খেলাপি হয়ে গেছে।
খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনের কারণসমূহ
এই খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। প্রথমত, অর্থনৈতিক মন্দা এবং ব্যাংকিং খাতে দক্ষ জনবলের অভাব। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকিং খাতে ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করার যে অপসংস্কৃতি বিদ্যমান, তার ধারাবাহিকতাও এখানে ভূমিকা রাখছে। তৃতীয়ত, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবারের ঋণের বোঝা বাড়তে থাকা, এসএমই কার্যক্রমের মন্থর গতি এবং কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমে যাওয়া।
বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই উল্লেখ করেছে, ছোট ছোট ঋণের খেলাপি গ্রাহকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া খুচরা পর্যায়ে ঋণের গুণগত মানের ব্যাপক অবনতির ইঙ্গিত বহন করে। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতির উচ্চচাপও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
বাজার সিন্ডিকেট ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব
গত এক বছরে এই সমস্যার যাত্রা শুরু হয়েছিল কোভিড মহামারির সময় থেকে, যার ফলশ্রুতিতে আজকের এই অবস্থা। এর পাশাপাশি বাজার সিন্ডিকেটের প্রভাব এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতিও এর অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথম আলোর ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখের একটি প্রতিবেদনে এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘কৃষক থেকে খুচরা বাজারে আসতে চালের দাম দ্বিগুণ’।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি পাইজাম চাল ৩০ টাকা ৬৫ পয়সা বিক্রি হয়। কিন্তু ওই চাল ব্যাপারী, মিলার, আড়তদার ঘুরে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হয় ৫৯ টাকা ৬৯ পয়সা। অর্থাৎ কৃষক বা ফার্ম থেকে খুচরা পর্যায়ে আসতে চালের দাম দ্বিগুণ হচ্ছে। একইভাবে কৃষক বা ফার্ম থেকে খুচরা পর্যায়ে ভোক্তাদের কাছে আসতে মসুর ডালের দাম বেড়েছে ৭৮ শতাংশ, পেঁয়াজে ৮৭ শতাংশ, আলুতে ৫০ শতাংশ, কাঁচা মরিচে ১১৬ শতাংশ, বেগুনে ৭২ শতাংশ, ডিমে ২৫ শতাংশ, গরুর মাংসে ১৩ শতাংশ, মাছে ১০ শতাংশ এবং ব্রয়লার মুরগিতে ২২ শতাংশ।
এই পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায়, উৎপাদক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হলেও ভোক্তাকে উচ্চমূল্যই পরিশোধ করতে হচ্ছে। একজন কৃষক কৃষিঋণ নিয়ে যে ফসল ফলান, তার উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় তিনি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেন না। ফলে ব্যাংক থেকে গৃহীত ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ করতে পারেন না এবং ঋণটি খেলাপি হয়ে যায়।
উচ্চমূল্যস্ফীতির প্রভাব ও সমাপ্তি
উচ্চমূল্যস্ফীতির ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে। কারণ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের ক্রেতা কম থাকলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয় না। ফলে ব্যাংক থেকে গৃহীত ঋণখেলাপি হয়। আবার একজন চাকরিজীবী বছর শেষে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট পান। অথচ ১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতির কারণে তার মোট খরচ ১০ শতাংশই বৃদ্ধি পায়। এর বিপরীতে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট হলে বাকি ৫ শতাংশ ঘাটতি থেকে যায়, যা একসময় ব্যাংকঋণের ওপর প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেও মনে করে, বড় বড় ঋণ খেলাপি হলে আর্থিক খাতে ক্ষতি বেশি হয়। তবে ছোট ছোট ঋণ হিসাবের খেলাপি দ্রুত বেড়ে যাওয়া সামগ্রিক খাতের জন্য একটি অশনি সংকেত বহন করে। বর্তমান পরিস্থিতিই তার বাস্তব উদাহরণ। অর্থনীতির উপাদানগুলোকে গিটারের তারের সঙ্গে তুলনা করা যায়—একটি তার টানলে অন্যটিতেও প্রভাব পড়ে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ক ষ দ র ও ম ঝ?
ক ষ দ র ও ম ঝ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ক ষ দ র ও ম ঝ matter?
ক ষ দ র ও ম ঝ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.