শাহপরীর দ্বীপ উপকূলে ভেসে এলো অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ: নাফ নদীতে নৌকাডুবির ঘটনার পর নতুন আবিষ্কার
Banglabeacon.com – শ হপর র দ ব প উপক – শাহপরীর দ্বীপ উপকূলে শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণপাড়ার হাজিপাড়া বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকার জোয়ারের পানিতে এক যুবকের মরদেহ ভেসে আসে। স্থানীয় লোকজন বেড়িবাঁধের ব্লকের মধ্যে কাপড়বিহীন অবস্থায় ওই যুবকের মরদেহ আটকে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। এরপর শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করেন।
কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীতে নৌকাডুবির ঘটনার ঠিক একদিন পর এই আবিষ্কার ঘটে। পুলিশের ধারণা, গত শুক্রবার ভোরে শাহপরীর দ্বীপ উপকূলে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ওই যুবক একজন হতে পারেন। তবে এখনো তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মৃত যুবকের বয়স ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত
শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সনজীব জানান, উদ্ধার হওয়া যুবকের বয়স আনুমানিক ৩২ বছর। তার মুখে দাড়ি রয়েছে। শরীরে প্রাথমিকভাবে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এই কথাগুলো বলেন। পুলিশ এখনো ওই যুবকের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শাহপরীর দ্বীপ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জোয়ারের পানি বাড়ার সময় মরদেহটি বেড়িবাঁধের ব্লকের মধ্যে আটকে ছিল। তারা দ্রুত পুলিশকে খবর দেয় এবং পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
নাফ নদীতে নৌকাডুবির ঘটনা ও শাহপরীর দ্বীপের গুরুত্ব
টেকনাফের নাফ নদী বরাবর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আনা-নেওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে কাজ করে। শাহপরীর দ্বীপ উপকূল এই পথের একটি প্রধান অংশ। গত শুক্রবার ভোরে এখানে একটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছিল, যাতে অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থী নিখোঁজ হয়েছিলেন। পুলিশের তদন্ত চলছে যে ওই নিখোঁজদের মধ্যে এই যুবকও ছিলেন কিনা।
শাহপরীর দ্বীপের স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মরদেহটি উদ্ধারের পর প্রাথমিক পরিদর্শন করা হয়েছে। যুবকটির শরীরে কোনো বিশেষ চিহ্ন বা দাগ পাওয়া যায়নি যা তার পরিচয় শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। ময়নাতদন্তের ফলাফল আসার পর তার পরিচয় সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
টেকনাফ মডেল থানা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার পর থেকে শাহপরীর দ্বীপ উপকূলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন এবং পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে তদন্তে সহায়তা করছেন। শাহপরীর দ্বীপ এলাকার বাসিন্দারা জানান, নৌকাডুবির পর থেকে তারা নিখোঁজদের খোঁজাখুঁজিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
পুলিশের ধারণা, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর এই যুবকটির পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। যদি তিনি নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের মধ্যে একজন হন, তবে তার পরিবারকে খবর দেওয়া হবে। শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনাটি শাহপরীর দ্বীপ উপকূলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়িয়েছে।
