Bangladesh

মেধাবীরা কি ভালো মানুষ হতে বাধ্য? | সংবাদ

5e52a37f-2dae-466e-a50d-0333769a6446-0

মেধাবীরা কি সত্যিই ভালো মানুষ হতে বাধ্য?

Banglabeacon.com – ম ধ ব র ক ভ ল – একটি তীক্ষ্ণ ছুরি সার্জনের হাতে রোগীর জীবন বাঁচাতে পারে, কিন্তু অপরাধীর হাতে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। একইভাবে উচ্চ মেধাও মানুষের চরিত্র, মূল্যবোধ, সামাজিক পরিবেশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রণোদনার ওপর নির্ভর করে মানবকল্যাণ বা মানবক্ষতির হাতিয়ার হতে পারে। তাত্ত্বিকভাবে, ‘মেধাবী মানুষ ভালো মানুষ হতে বাধ্য’—এই দাবির পক্ষে বিবর্তনবাদ, মনোবিজ্ঞান, সমাজতত্ত্ব বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে কোনো সাধারণ নিয়ম নেই।

বিবর্তনবাদের দৃষ্টিভঙ্গি

বিবর্তনবাদের মূল প্রশ্ন হলো কোন বৈশিষ্ট্য টিকে থাকতে সাহায্য করে? এখানে ‘ভালো মানুষ’ হওয়ার চেয়ে ‘বেঁচে থাকা ও বংশবৃদ্ধি’ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বুদ্ধিমত্তা বিবর্তিত হয়েছে শিকার করার জন্য, সমস্যা সমাধানের জন্য, সামাজিক সম্পর্ক বুঝতে, প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারাতে এবং ভবিষ্যৎ অনুমান করতে। অর্থাৎ, বুদ্ধিমত্তা একটি অভিযোজন। কিন্তু প্রকৃতি কখনো বলেনি ‘যে বেশি বুদ্ধিমান, সে অবশ্যই বেশি নৈতিক হবে।’ মেধাবীরা কি সবার ওপরে?

মাকিৱালি৳ান তত্ত্ব ও মনোবিজ্ঞান

মাকিৱালি৳ান এই তত্ত্ব বলছে—মানুষের মস্তিষ্ক বড় হয়েছে শুধু সহযোগিতার জন্য নয়, বরং কে কাকে ঠকাচ্ছে, কে ক্ষমতা দখল করবে, কে জোট বাঁধছে, কে বিশ্বাসঘাতক—এসব বোঝার জন্য। অর্থাৎ, উচ্চ বুদ্ধিমত্তা মানে উচ্চ সামাজিক কৌশল, নৈতিকতা নয়। মনোবিজ্ঞানে অন্তত চারটি জিনিস আলাদা ধরা হয়—আইকিউ, ইকিউ (আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা), সহানুভূতি এবং নৈতিক যুক্তি।

একজন মানুষের আইকিউ ১৫০ হতে পারে, কিন্তু তার সহানুভূতি খুব কমও হতে পারে। আবার একজন সাধারণ শিক্ষক বা কৃষকের আইকিউ গড়পড়তা হলেও নৈতিকতা অসাধারণ হতে পারে। মেধাবীরা কি পাওয়ারফুল?

সমাজতত্ত্ব ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোকে

সমাজতত্ত্বে মানুষকে শুধু ব্যক্তিগত নৈতিকতা দিয়ে বিচার করা হয় না। বরং সামাজিক কাঠামো, শ্রেণি, ক্ষমতা, প্রতিষ্ঠান ও সংস্কৃতি মানুষকে প্রভাবিত করে। উচ্চ মেধাবী কেউ যদি এমন প্রতিষ্ঠানে থাকে যেখানে দুর্নীতি পুরস্কৃত হয়, তাহলে সে নিজের মেধা ব্যবহার করবে—দুর্নীতি আরও দক্ষভাবে করার জন্যও।

ইতিহাসে দেখা যায়—অত্যন্ত মেধাবী মানুষদের মধ্যে যেমন আছেন আলবার্ট আইনস্টাইন, মেরি কুরি; তেমনি অত্যন্ত মেধাবী কিন্তু ভয়াবহ অপরাধে জড়িত ব্যক্তিও ছিলেন জোসেফ গোয়েবলস, রেইনহার্ড হেইড্রিখ। উচ্চ বুদ্ধিমত্তা নিজে নৈতিকতার নিশ্চয়তা দেয়নি।

মেধাবীরা কি অনুসরণীয়?

‘ভালো মানুষ’ তৈরি কী দিয়ে অনেক গবেষক মনে করেন—উচ্চ বুদ্ধিমত্তার মানুষ নিজের আচরণের পক্ষে আরও জটিল যুক্তি দাঁড় করাতে পারে। অর্থাৎ ভালো কাজ করলে সে চমৎকার যুক্তি দিতে পারে। আবার খারাপ কাজ করলেও সেটিকে ন্যায্য প্রমাণ করার জন্যও খুব শক্তিশালী যুক্তি বানাতে পারে। এটিকে অনেক সময় ‘মোটিভেটেড রিজনিং’ বা ‘মোরাল র্যাশনালাইজেশন’-এর আলোচনায় ব্যাখ্যা করা হয়। মেধাবীরা কি বিপজ্জনক?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *