ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ নয়, নীতিমালা প্রয়োজন: ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী
Banglabeacon.com – ব য ট র চ ল ত – রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ব্যাটারিচালিত যানবাহন সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করার চেয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে সেগুলোকে বৈধতা দেওয়াই বেশি জরুরি। সম্প্রতি ‘দৈনিক সংবাদ’-এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার জাবির আহমেদ জিহাদ-এর সাথে একান্ত আলাপকালে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত মতামত প্রকাশ করেন। পাঠকদের সুবিধার্থে তাঁর সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো এখানে তুলে ধরা হলো।
উচ্ছেদ নয়, বৈধতা প্রদানই সমাধান
ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ নিয়ে সংগ্রাম পরিষদের অবস্থান সম্পর্কে ডা. চক্রবর্ত্তী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আমরা বলছি যে, এই যানবাহনগুলোকে সরিয়ে ফেলা কোনো সমাধান নয়। বরং এগুলোকে একটি সমন্বিত নীতিমালার আওতায় নিয়ে বৈধতা প্রদান করাটাই হচ্ছে প্রকৃত সমাধান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ সরাসরি এই যানবাহনের সাথে যুক্ত। অর্থাৎ, ৩ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা এর ওপর নির্ভরশীল। তাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে বারবার উচ্ছেদ অভিযান চালালে দেশের অর্থনীতি বা রাজনীতিতে কোনো স্থিতিশীলতা আসবে না।
সরকারের ভূমিকা ও হাইকোর্টের রায়
নীতিমালা প্রণয়নে সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী বলেন, স্থানীয়ভাবে একটি অটোমোবাইল খাত গড়ে ওঠার বড় সম্ভাবনা এখানে রয়েছে। বিআরটিএর সাথে সমন্বয় করে যানবাহনের ডিজাইন, রেজিস্ট্রেশন এবং চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার। একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতি প্রণয়নের জন্য সরকারের কাজ করা উচিত।
বর্তমানে চলা উচ্ছেদ অভিযান এবং যে ১২০০ টাকা করে জরিমানা বা টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটছে, তা অত্যন্ত অমানবিক। ২০২২ সালে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন যে, মহাসড়ক ছাড়া অন্যান্য সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক চলতে পারবে। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে যারা রিকশা শ্রমিকদের হাঙ্গামা করছে বা অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে, তারা মূলত আদালতের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখাচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি।
যানজট ও দুর্ঘটনার দায় কার?
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এসব যানের কারণেই যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ছে। এ ব্যাপারে ডা. চক্রবর্ত্তী বলেন, তিনি মনে করেন, অটোরিকশার কারণে দুর্ঘটনা হচ্ছে না। বরং সড়কে যে বিশৃঙ্খলা, সেখানে সরকারের যথাযথ ভূমিকার অভাব রয়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ঢাকা শহরের প্রায় ৭৫ শতাংশ রাস্তা দখল করে রাখে প্রাইভেট কার। রাস্তা এভাবে দখল হয়ে থাকলে বাকি যানবাহনের জন্য জায়গা তো কমবেই। সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা বা চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। সরকার যদি নিজের দায়িত্ব পালন না করে শুধু রিকশা শ্রমিকদের গালিগালাজ করে, তবে তাতে কোনো লাভ হবে না।
সাক্ষাৎকারের শেষে জাবির আহমেদ জিহাদ তাঁকে ধন্যবাদ জানালে ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী বলেন, আপনাকে এবং ‘দৈনিক সংবাদ’-এর পাঠকদেরও ধন্যবাদ।
