Bangladesh

পুলিশে ‘ঝড়’ থামছে না | সংবাদ

প ল শ ঝড় থ মছ ন - শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে পুরো পুলিশ বাহিনী একটি অস্বাভাবিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিগত শাসনামলে বেনজীর আহমেদ ও ডিবি হারুনের মতো

Desk Bangladesh
Published July 28, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Jennifer Taylor - banglabeacon.com

পুলিশে ঝড় থামছে না: অবসর, গ্রেফতার ও মাঠ পর্যায়ে সংকটের নতুন দিক

Banglabeacon.com – প ল শ ঝড় থ মছ ন – শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে পুরো পুলিশ বাহিনী একটি অস্বাভাবিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিগত শাসনামলে বেনজীর আহমেদ ও ডিবি হারুনের মতো কর্মকর্তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য ও দলবাজির ফলে পুরো বিভাগকে খেসারত দিতে হচ্ছে। বাধ্যতামূলক অবসর, গ্রেফতার ও পলাতক কর্মকর্তাদের তালিকার কারণে মাঠ প্রশাসনে গভীর শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ফলে রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের দূরবর্তী এলাকা পর্যন্ত সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত পুলিশি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে পুলিশে ঝড় থামছে না বলেই মনে হচ্ছে।

অবসর ও ছাঁটাই প্রক্রিয়া

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন পদমর্যাদার ১৪১ জন কর্মকর্তাকে সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী অবসরে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও এসপি অন্তর্ভুক্ত। সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৭ জন কর্মকর্তাকে সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ অনুযায়ী জনস্বার্থে অবসরে পাঠানো হয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নৈশভোটের কারিগর হিসেবে কাজ করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

নিজ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “ঝড় আসলে কোনটা পীরের বাড়ি, কোনটা ভাল মানুষের বাড়ি, তা বিচার করার সুযোগ নেই। ঝড়ের তাণ্ডবে ভাল-মন্দের হিসাব করার সুযোগ নেই। তখন অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “দলবাজ থেকে শুরু করে রাতের ভোটের কারিগর সবাইকে একে একে অবসরে যেতে হচ্ছে।”

মাঠ পর্যায়ে নির্যাতনের হার

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কেবল গত জুন মাসেই ঢাকার ৬ জনসহ সারাদেশে ৫১ জন পুলিশ সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন। মে মাসে ৫৫ জন, এপ্রিলে ৬৬ জন, মার্চে ৬৩ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪২ জন এবং জানুয়ারিতে ৪২ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। প্রতি মাসে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন পুলিশ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ক্ষুদ্র ও আঞ্চলিক পর্যায়ে অনেক আক্রমণের ঘটনা পুলিশ সদর দপ্তর পর্যন্ত পৌঁছাতেও না।

সাবেক এক ডিআইজি মন্তব্য করেন, “পুলিশ বাহিনী যে ঝড়ের কবলে পড়েছে, তা এখন দূরারোগ্য হয়ে উঠেছে। একের পর এক সিনিয়রদের অবসরে পাঠানোসহ নানা কারণে মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রমে এখনো অস্থিরতা বিরাজ করছে, যার জন্য জনভোগান্তি কমছে না।”

বেনজীর-হারুনের অপকর্মের দায়

বিদেশে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, দলবাজি ও নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে কমপক্ষে ১৬টি মামলা রয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিলেও তার রক্ষায় নেপথ্যে নানা তৎপরতার অভিযোগ উঠছে। অন্যদিকে সাবেক ডিবি প্রধান ডিআইজি হারুন ও ডিসি বিপ্লব কুমার সরকারের মতো প্রতাপশালী কর্মকর্তাদের বেপরোয়া আচরণ পুরো বাহিনীকে চরম প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সরকারের পতনের পর পরই এসব কর্মকর্তার অনেকে বিদেশে পালিয়ে গেছেন বা আত্মগোপনে রয়েছেন।

থানা পর্যায়ে সেবা ও জনদুর্ভোগ

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনগণের চরম দুর্ভোগ থানা পর্যায়ে সেবা নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ফিরে আসতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অপরাধ দমনে স্থানীয়রা খবর দিলেও অনেক এলাকায় সমসমতো টহল দল যাচ্ছে না। রাতে যে পুলিশি টহল ছিল, তাও অনেক এলাকায় বন্ধ। থানার ওসিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঠিক তথ্য না দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা করছেন।

থানা পর্যায়ে একাধিক ওসির সাথে কথা বলে জানা যায়, মাঠপর্যায়ে এখনো পুলিশকে জনগণের গালমন্দ শুনতে হচ্ছে। আগে মানুষ পুলিশকে যে সম্মান দিত, তা অনেকটাই ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবুও নিজেদের সীমাবদ্ধতা আর চরম মানসিক চাপের মধ্য থেকেই স্থানীয় লোকজনের সাথে মিলেমিশে নিরাপত্তার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অনেক কর্মকর্তা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা

গত ২৬ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জনপ্রত্যাশা ও জনাকাঙ্খা অনুযায়ী একটি জনবান্ধব ও সেবামুখী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে পুরস্কার ও তিরস্কারের নীতি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

মন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে আরও বলেন, “যারা সততা, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের কর্মের যথাযথ স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে। আর যারা আইন-বিধি লঙ্ঘন করে জনসেবার ব্যাঘাত ঘটাবেন বা অপকর্মে লিপ্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Leave a Comment