জুলাইযোদ্ধা গেজেট বাতিলের তালিকায় নতুন যোগ
Banglabeacon.com – প রত রণ কর জ ল ইয – জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসে যারা শহিদ ও আহত হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন, তাদের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পরে নতুন করে ২২১ জনের গেজেট বাতিল করা হয়েছে। সরকারিভাবে এই তালিকা যাচাই করার সময় ১৩ জন শহিদের তথ্য ভুয়া প্রমাণিত হয়। একই সময়ে ২০৮ জন আহত যোদ্ধার তথ্যও মিথ্যা বলে শনাক্ত হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন ধাপে এই গেজেট বাতিলের কার্যক্রম চলমান।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম
গত বছরের ২৯ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মিথ্যা তথ্য, দ্বৈত নিবন্ধন এবং ভুয়া দাবির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণ হওয়ায় ১২৮ জনের নাম গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যাদের ভাতাসহ সকল ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতারণার মাধ্যমে যারা জুলাইযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কাজও চলছে।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন করে প্রায় ২০০টি আবেদন সম্পূর্ণ ভুয়া এবং আরও ৬০০টি আবেদনে গুরুতর অসংগতি শনাক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে শতাধিক সন্দেহজনক আবেদন ও গেজেট এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।
প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদের অধিকার নিশ্চিত করতে কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার সঙ্গে আপস করা হবে না। অভিযোগ পাওয়া প্রতিটি ঘটনা জেলা-উপজেলাসহ তৃণমূল পর্যায়ে তদন্ত করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তাদের গেজেট বাতিল ও সব ধরনের সরকারি সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে।
এই মন্তব্য করেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আনোয়ারুল নাসের।
দণ্ডনীত অপরাধ ও আইনি ব্যবস্থা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং জুলাইযোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী মিথ্যা তথ্য প্রদান, তথ্য গোপন বা ভুয়া নথি ব্যবহার করে সরকারি সুবিধা গ্রহণ দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড, ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা অবৈধভাবে গ্রহণ করা সরকারি সুবিধার দ্বিগুণ অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ৮৪৩ শহিদসহ মোট ১৪ হাজার ৩৭০ জন জুলাইযোদ্ধার গেজেট কার্যকর রয়েছে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে কার্যকর গেজেটভুক্ত শহিদ ও জুলাইযোদ্ধার সংখ্যা ১৫ হাজার ২১৩। এসব যোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের কল্যাণে এ পর্যন্ত ৩৮৩ কোটির বেশি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
নতুন আবেদনকারীদের মধ্যে পরিচালিত যাচাইয়ে প্রায় ২০০টি আবেদন সম্পূর্ণ ভুয়া বলে শনাক্ত হয়েছে। আরও ৬০০টি আবেদনে বিভিন্ন ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একই ব্যক্তির একাধিক আবেদন, শহিদের পরিচয়ে আহত হিসেবে আবেদন, তথ্যগত গরমিল এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রে অসংগতি রয়েছে।
শহিদ পরিবার ও আহতদের জন্য সরকারের কল্যাণমূলক কর্মসূচি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ। তবে এত বড় আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণা পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এই মন্তব্য করেন।
