Bangladesh

‘ফ্যাসিবাদকে’ প্রাসঙ্গিক করার অপচেষ্টা চলছে: মজিবুর রহমান

1e23a1d0-78ad-4a92-b60e-84858c6b2cf8-0

Banglabeacon.com – ফ য স ব দক প র – “`html

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে মঞ্জুর মন্তব্য: ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মারা এখনো তৎপর

আগস্ট মাসের নৃশংসতার স্মৃতি এখনো জীবন্ত। সেই ভয়ংকর দিনগুলোতে দেশবাসী গুমরে কেঁদেছিল। কিন্তু নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলে ফ্যাসিবাদকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে। এটাই হলো গণ-অভ্যুত্থানের আসল তাৎপর্য। অথচ বর্তমানে একটি গোষ্ঠী পর্দার আড়াল থেকে সেই ফ্যাসিবাদকে আবারও রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এই মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তিরা ভোল বদলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নিয়েছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের পরাজিত ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মারাও এখন একইভাবে তৎপর হয়ে উঠেছে।

৭১-এর পরাজিত শক্তিদের সাথে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা

একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা পাকিস্তানে পালিয়ে গেলেও তাদের দালাল ও রাজাকার-আলবদররা এ দেশে থেকে গিয়েছিল। তাদের একটি বড় অংশ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগে আশ্রয় নেয়। একইভাবে বর্তমান ফ্যাসিবাদ পালিয়ে গেলেও তাদের কিছু অনুসারী দেশে থেকে ইনিটি-বিনিটি দলটিকে রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করছে।

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দলটির পক্ষ থেকে ‘আলেম, ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: রক্তবিধৌত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের জয়’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করা হয়।

আগস্টের সেই বীভৎসতা ও নৃশংসতা দেখে দেশের মানুষ গুমরে কেঁদেছে। সেই ক্ষোভ থেকেই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে রাজপথে নেমে এসে শক্তিশালী প্রতিরোধের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছে।

আলেম সমাজের অবদান ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভূমিকা

গণ-অভ্যুত্থানে আলেম সমাজের ভূমিকার প্রশংসা করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, সাধারণ আলেম-ওলামারা সরাসরি দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও জাতির যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন ও জুলাই অভ্যুত্থানে তাদের অবদান অনস্বীকার্য।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা ‘আবাবিল পাখির মতো’ ঝাঁকে ঝাঁকে রাজপথে নেমে আসা এই বিপ্লব সফল হয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনার কথা উল্লেখ করে মঞ্জু বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিজয় নিশ্চিত হয়েছে।

৭১-এ পরাজিত শক্তিরা পাকিস্তানে পালিয়ে গেলেও তাদের দালাল ও রাজাকার-আলবদররা এ দেশে থেকে গিয়েছিল। তাদের একটি বড় অংশ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগে আশ্রয় নেয়।

কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা

তিনি জোর দিয়ে বলেন, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া ভবিষ্যতে পুনরায় ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা রোধ করা সম্ভব নয়। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী বলেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। দেশপ্রেমিক সব শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই আজ আমরা স্বাধীন।

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের বীজ মূলত রোপিত হয়েছিল ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরেই। সভায় আরও বক্তব্য দেন ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব আবদুল্লাহ আল মাসুদ খান, খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখ যোদ্ধা মাওলানা সাদমান ফুয়াদ ও মো. আলিফ।

এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুলের সঞ্চালনায় সভা উপস্থিত ছিলেন দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুল হালিম খোকন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আবদুর রহমান, গণশিক্ষা সম্পাদক আনোয়ার ফারুক প্রমুখ। বক্তারা জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং শহীদদের স্বপ্ন পূরণে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

“`

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *