ঈদ উধাও, ১৫ শ্রমজীবী লাশে মান্দা গ্রাম হারাল মান্দা
১৫ শ রমজ ব র ল শ – টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সোমবার ভোরে ঘটে গেল ভয়াবহ একটি সড়ক দুর্ঘটনা। ঐ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন মানুষ, যাদের সবাই বাড়ি ফেরার জন্য আনন্দে ভরপুর স্বপ্ন করছিলেন। সন্তানকে ঈদি জামা কিনে দেওয়ার কথা বলেছিলেন কেউ, আর কেউ বৃদ্ধ মায়ের হাতে বাজার তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। কিন্তু এই স্বপ্নগুলো শুধু বুক ভরা নয়, কিছু না কিছু হারিয়ে গেল তাদের।
নিহতদের মধ্যে নিয়ামতপুর উপজেলার মালঞ্চি গ্রামের সারিকুলও রয়েছেন। সবাই একই গ্রামে বাস করেন, যাদের বাড়ি রাজেন্দ্রবাটি ডেবরা গ্রাম। এই অন্তত ১৫ জনের মধ্যে নওগাঁর মান্দা উপজেলার সাত জন রয়েছেন। তারা নোয়াখালীতে প্লাস্টিক ও মালামাল বিক্রি করতেন। বর্ষা মৌসুম শেষে কাজের সুযোগ কমে আসায় এই কাজে নিয়োগ পেয়েছিলেন। যমুনা সেতু পার হওয়ার পর তাদের ছেলেগুলো আর বেঁচে নেই বলে জানান গ্রামের জসিম।
গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে শোকের মাতম বইছে। রাস্তায়, গাছতলায় বাড়ির উঠানে কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে। নিহতরা হলেন- তারেক (২১), আব্দুল বারেক (২৪), বাদশাহ (২৮), সোহাগ (২১), রবিউল ইসলাম (২৬), মাইনুল (৩০), ময়নুল ও গিয়াস (২৬ বছর বয়সী দুই ভাই), সাগর (২৬)। স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, “এরা সবাই গরিব মানুষ। বিলের পানি শুকিয়ে গেলে সংসার চালাতে বাইরে গিয়ে ফেরি করত। আমাদের গ্রামে এত মানুষ হতে পারেন নাই।”
“আমরা সবাই একসঙ্গে নোয়াখালীতে ছিলাম। তারা আগের গাড়িতে উঠছিল। আমরা ছিলাম পরের গাড়িতে। টাঙ্গাইল পার হওয়ার পর দেখি একটি ট্রাক উল্টে আছে। পরে যমুনা সেতু পার হয়ে জানতে পারি আমাদের গ্রামের ছেলেগুলো আর বেঁচে নেই।”
ফেনী থেকে রডবোঝাই ট্রাকে চড়ে তারা রওনা দেন। ট্রাকটি কালিহাতীতে উল্টে গেলে রডের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান অনেকে। মান্দা থানার ওসি খোরশেদ আলম বলেন, “এখন পর্যন্ত মান্দার দুই শ্রমজীবীর বাড়ি নিশ্চিত হয়েছে। কিন্তু নিহতদের মধ্যে আরও কেউ মান্দার হতে পারেন। পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।”