১৫ ক্ষেতমজুরের মৃত্যুতে ক্ষোভ, পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের দাবি
১৫ ক ষ তমজ র র ম – ঈদের উপলক্ষে টাঙ্গাইলে একটি ট্রাক উল্টে প্রায় ১৫ জন ক্ষেতমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ মৃত্যু বেড়ায় এ বিষয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির পক্ষে। সমাবেশটি মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে হয়। এতে সংগঠনের সভাপতি ডা. ফজলুর রহমানের পরিচয় দেওয়া হয় পাশাপাশি অন্যান্য নেতাদের নাম উল্লেখ করা হয়।
সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান বলেন, গ্রামে সারা বছর কাজ না থাকায় মানুষ শহরে আসতে হয়। ঈদের সময় কাজ বন্ধ হওয়ায় তাদের বাড়ি ফিরতে বাধ্য করা হয়। তাদের কর দেওয়া হয় এবং করোনার সময়ও ধান লাগিয়ে দেশের খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে। কিন্তু সেই সম্পর্কে কোনও নিশ্চয়তা ছাড়া তারা অন্য জেলায় কাজে যেতে বাধ্য হয়।
ট্রাক দুর্ঘটনার আলোচনা এবং দাবি
সমাবেশে ক্ষেতমজুর সমিতির কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন রেজা বলেন, শত কষ্টের মধ্যেও দরিদ্র শ্রমিক দেশের স্থায়ী সমর্থনকারী। তারা সরকারের আয় ও ঈদের উপলক্ষে দেশের বিপর্যস্ত অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু সেই সম্পর্কে কী করে তাদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হয় না তা আলোচনা করা হয়।
ট্রাক উল্টে ১৫ জন ক্ষেতমজুরের মৃত্যু হলো, অথচ সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনও ঘোষণা আসেনি। কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা থাকলেও সাধারণ শ্রমজীবীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য কোনও বিশেষ ট্রেন দেওয়া হয় না বলে সমালোচনা করেন সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স।
রুহিন হোসেন প্রিন্স আরও উল্লেখ করেন, সরকার বিশেষ যাতায়াত ব্যবস্থা করলে তাদের জীবনের ঝুঁকি নিতে হতো না। তিনি সড়ক দুর্ঘটনাকে ‘কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেন।
অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন রেজা দাবি জানান, যেখানে বাসের ছাদে লোক নেওয়া নিষেধ করা হয়, সেখানে রড বোঝাই ট্রাকে এতগুলো মানুষ কীভাবে মহাসড়ক দিয়ে যেতে পারে এবং হাইওয়ে বা ট্রাফিক পুলিশের চোখে কেন পড়ে না তা আলোচনা করেন শ্রমিক নেতা আব্দুল কুদ্দুস। তিনি অবিলম্বে এই অব্যবস্থাপনা দূর করার আহ্বান জানান।
সমাবেশে আহত ও মৃতদের পরিবারের প্রতি করুণা ও পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়। সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য মোতালেব হোসেন কর্তৃক এ দাবি প্রকাশ করা হয়।