News

সিডনিতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করলেন বাংলাদেশি প্রবাসী | সংবাদ

সিডনিতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করলেন বাংলাদেশি প্রবাসী | সংবাদ স ডন ত স ত র ও - অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে নিজের স্ত্রী এবং দুই শিশু সন্তানকে কুপিয়ে

Desk News
Published May 19, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Mark Hernandez - banglabeacon.com

সিডনিতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করলেন বাংলাদেশি প্রবাসী | সংবাদ

Banglabeacon.com – স ডন ত স ত র ও – অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে নিজের স্ত্রী এবং দুই শিশু সন্তানকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছেন। এই ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় ঘটেছে সবচেয়ে ভয়াবহ ও বর্বর পারিবারিক হত্যার একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। নিহত শিশুদের বয়স যথাক্রমে ১২ ও ৪ বছর।

তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্যাম্পবেলটাউনের বাসায় বেশ কয়েক মাস ধরে এই হত্যার জন্য সাজানো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি মর্মান্তিক একটি ঘটনা থেকে প্রেরণ করেছিলেন, যেটি চলতি বছরের জানুয়ারিতে পার্থে ঘটে। সেখানে দুই অটিজম প্রতিক্রিয়া সম্পন্ন সন্তানের জন্য মানসিক চাপ সামলাতে না পেরে দম্পতি নিজেদের সন্তানদের হত্যা করে আত্মহত্যা করে।

অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার স্ত্রী প্রায় এক দশক আগে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসেন। তিনি গত বছর ক্যানসারে আক্রান্ত হন, যার পর থেকে তীব্র হতাশার ভোগ করেন। বর্তমানে তিনি রোগমুক্ত ছিলেন। তিনি এমন অস্ত্র ব্যবহার করেছেন যা আঘাত হানা করতে পারে, কিন্তু কোনো আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি।

গত সোমবার রাতে অভিযুক্ত নিজেই জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি অপারেটরকে বলেন, “আমি আমার সন্তান ও স্ত্রীকে ছুরি দিয়ে হত্যা করেছি।” খবর পেয়ে পুলিশ সিডনির ক্যাম্পবেলটাউনে তার বাড়িতে পৌঁছে তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। আদালতে তার মক্কেল উপস্থাপন করা হয়নি এবং জামিন আবেদনও করেননি।

“এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক একটি ঘটনা। তিনি ভীষণ ভেঙে পড়েছেন।”

আইনজীবী জাওয়াদ হোসেন আদালতের বাইরে প্রতিবেশীদের কাছে উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারীরা ভয়াবহ সহিংসতার চিত্র দেখেছিলেন। তিনি আরও জানান, এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না।

সিডনির পুরো এলাকায় শোক ও স্তব্ধতা ছড়িয়ে পড়েছে। এক প্রতিবেশী জানান, সে প্রায়ই শিশু দুটিকে বাইরে খেলতে দেখতেন এবং তারা খুব হাসিখুশি ছিল। আরেক বাসিন্দা নিজের বাগান থেকে ফুল এনে নিহত বাড়ির সামনে রেখে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “কীভাবে কেউ এটা করতে পারে? ওরা তো শিশু, একদমই শিশু।”

নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “আমরা পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সরাসরি সামনের সারির সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।” তিনি বলেন, “এটুকুই যথেষ্ট নয়, মানুষ সেটাই বলছে।”

আগামী জুনে রাজ্য বাজেটে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে তিনি জানান।

Leave a Comment