সংযমের বার্তা না সংকটের ইঙ্গিত?
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স যম র ব র ত ন – প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন জাতীয় রাজনৈতিক চার্চার মুখে পরিণত হয়েছেন দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও তাঁর সংযমের আহ্বানের উপর। বেঙ্গালুরুতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি মানুষের কাছে সোনা কেনার কমানো, জ্বালানি খরচ কমানো এবং বিদেশী সফর এড়ানোর আবেদন করেছেন। তবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আসা বিষয়টি সরকারের সংযমের আহ্বান কিংবা একটি গুরুতর সংকটের প্রতিফলন কিনা তা নিয়ে কথা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রমাণ কী?
গৃহীত সংকটের চিহ্ন হিসেবে উঠছে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি হারের গুরুতর সংকট আছে কিনা তা। অতএব এই সংযমের আহ্বান সাধারণত অর্থনৈতিক বৃদ্ধির প্রতি নজর দিচ্ছে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। বর্তমান হিসাবে ঘাটতি বা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট বৃদ্ধি হচ্ছে মূলত জ্বালানি ও স্বর্ণের আমদানির কারণে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও ডলারের বিপরীতে রুপির অস্থিতিশীলতা আমদানি খরচ বাড়াচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খাদ্য ও জ্বালানি খাতে উন্নতি হওয়া মূল্যবৃদ্ধি যা সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে।
সরকার বা বিরোধীরা কেন দাবি করছেন?
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আন্তর্জাতিক বাজার বা সংকট সম্পর্কে স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াও স্থিতিশীল হলেও, বিদেশ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানি বাড়ছে। এই পরিস্থিতির মুখে বিরোধী শিবির আক্রমণ করছে। তাঁদের মতে, এই আহ্বান সরকারের অর্থনৈতিক ব্যর্থতার প্রমাণ।
রাহুল গান্ধি বলেছেন, “নির্বাচনের সময় বিপুল খরচ, চার্টার্ড বিমানে ভ্রমণ ও ব্যাপক প্রচারের পর এখন কেন সাধারণ মানুষকে সংযমের কথা বলা হচ্ছে?”
কংগ্রেসের কার্তি চিদাম্বরম ও কে সি বেণুগোপাল কী পরিস্থিতি পরিষ্কার করে দেখা হচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তাঁদের দাবি, দেশের মানুষ জানার অধিকার রয়েছে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কী এবং সেই সমস্যার মোকাবিলার জন্য সরকার কী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
সংযমের বার্তা নিয়ে সংকটের দিকটি কী?
অখিলেশ যাদব বিতর্ককে আরও উপরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন, যার মধ্যে সংযমের বার্তা আসলে আগাম সতর্কতা কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অর্থনৈতিক সূচক তার সতর্কতার দিকটি স্পষ্ট করে দেখছে, কিন্তু তা চূড়ান্ত ক্ষতির কক্ষ পর্যন্ত পৌঁছায়নি।