সংবাদের চারণ-পুরুষ মোনাজাতউদ্দিন
স ব দ র চ রণ প – বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে সংবাদ একটি অপূর্ব নাম হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ চার দশকের যাত্রায় এই পত্রিকাটি দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নে অবদান রেখেছে। বহু সাংবাদিক এই পত্রিকাকে সমৃদ্ধ করেছেন যারা ক্ষুদ্র সমাজের ধ্বংসাবশেষ সম্পর্কে কথা বলতেন।
১৯৪৫ সালের ১৮ জানুয়ারি তৎকালীন ‘মঙ্গাখ্যাত’ উত্তরাঞ্চলের রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার এক ছোট পল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন মোনাজাতউদ্দিন। তার বাবা মৌলবী আলীম উদ্দীন আহমেদ এবং মা মতিজান নেছা। তার শৈশব এবং শিক্ষার যাত্রা ছিল অত্যন্ত কঠিন। পরিবারে সাত ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বড় ছিলেন যার জন্য পরিবারের সমস্ত ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল।
সংবাদে জীবনের নামকরণ করা হয়েছিল তার কার্যকারিতা সামাজিক গ্রামীণ সমস্যার প্রতি অস্ত্র হিসেবে। তিনি রংপুরের ঐতিহ্যবাহী কৈলাশরঞ্জন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেন এবং পরবর্তীতে কারমাইকেল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। তবে তার বিএ শ্রেণিতে পড়ার সময় হঠাৎ বাবার মৃত্যু তার পথে অগ্রাহ্য বাধা হিসেবে দাঁড়ায়। অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে তিনি পড়াশোনা বন্ধ করেন নি; অদম্য ইচ্ছার বলে বিশেষ পরীক্ষায় সফল হন।
সাংবাদিকতার আত্মপ্রকাশ
১৯৬৬ সালে তিনি প্রথম কর্মস্থল হিসেবে দৈনিক আজাদ পত্রিকায় যোগ দেন। এরপর ১৯৭২ সালে নিজের প্রকাশনা জীবন শুরু করেন দৈনিক রংপুরের মাধ্যমে। কিন্তু সাংবাদিক সত্তার পূর্ণ বিকাশ ঘটে ১৯৭৬ সালে যখন দৈনিক সংবাদে যোগ দেন। উত্তরবঙ্গের অবহেলিত স্থানের মানুষের কষ্টের স্বাক্ষর হিসেবে তিনি স্থায়ী অবদান রেখেছেন।
তিনি কেবল একজন ক্ষুরধার প্রতিবেদক ছিলেন না, ছিলেন নাট্যকার, ছড়াকার ও শক্তিমান কথাসাহিত্যিক।
তার লেখনী ছিল শানিত ও ধারালো কিন্তু অন্তঃকরণে মানুষের প্রতি গভীর সংবেদনশীলতা রয়েছিল। তিনি ছিন্নমূল মানুষ, চরাঞ্চলের কৃষক এবং নদীভাঙা পরিবারের কথা বলতেন। প্রতিবেদনে তার স্বীকৃত স্থান ছিল তাদের গৃহীত স্থান। সংবাদের পাতায় প্রকাশিত ‘মানুষ ও সমাজ’ বিভাগটি তার সামাজিক দায়িত্বের প্রতিফলন। এই বিভাগের জন্য তিনি মর্যাদাপূর্ণ ফিলিপস পুরস্কার পেন।
তার অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজে