মিরপুরে চালের কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে হামলা, ভিডিও ভাইরাল
ম রপ র চ ল র ক – কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) দেশীয় অস্ত্র সহ হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে ঘটে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামলার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার ফলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে হাতাহাতি করছেন। একটি মুহূর্তে তারা সচিবের দিকে রামদা হাতে তেড়ে যাচ্ছেন। ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম দাবি করেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে তিনি ইউনিয়ন পরিষদে ৬১৬টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ করেছিলেন। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতারা সব কার্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিলেন।
তারপর স্থানীয় সংসদ সদস্য জামায়াত ঘরানার সদস্য হওয়ায় চেয়ারম্যান কিছু কার্ড জামায়াত নেতাদের দিতে চেয়েছিলেন। তদুপরি মঙ্গলবার দুপুরে আলোচনার সময় বিএনপি নেতারা জামায়াতকে কোনো কার্ড দিতে নিষেধ করেছিলেন। হামলার বিষয়টি নিয়ে তারা ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশ করে আসবাব ভাঙচুর করে এবং সচিবের গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকি দেয়।
ইউপি সচিব মোস্তফা হালিম সিদ্দিকী বলেন, ‘বিএনপি নেতারা সব কার্ড নিজেদের দাবি করছিলেন। জামায়াতকে কোনো কার্ড দিতে নিষেধ করেন। তারা আমার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ভীতি প্রকাশ করেছিলেন। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।’
ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মন্ডল জানান, চেয়ারম্যান আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিয়োগ ছিলেন। গ্রামের এক যুবককে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তিনি বিদেশী সহায়তা গ্রহণ করেছিলেন। সেই টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন না। কার্ড নিয়ে কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, অন্য একজনের হাত থেকে তিনি রামদা অর্থাৎ হাতে রামদা কেড়ে নিয়েছিলেন।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম জানান, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। কুষ্টিয়া জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম ঘটনা যাচাই করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।