মহেশখালীতে প্যারাবন ধ্বংসের অভিযোগ, সশস্ত্র পাহারা বসিয়েছে দুর্বৃত্তরা
মহ শখ ল ত প ড়ছ প – কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা এলাকায় উপকূলের প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত প্যারাবন আগুনে ধ্বংস হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে আগুন জ্বলতে থাকার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। এলাকায় দুর্বৃত্তদের পাহারা বসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ জানানো হচ্ছে, যাতে কেউ তাদের কাছে প্রবেশ করতে না পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি দল দুর্বৃত্ত কেরোসিন ছড়িয়ে বিস্তীর্ণ প্যারাবন আগুন ধরিয়ে দেয়। শুক্রবার বিশ্ব পরিবেশ দিবসেও বনভূমির মধ্যে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। শনিবার (৬ জুন) দুপুর পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
প্যারাবন ধ্বংসে নেতৃত্ব দিচ্ছে এক ব্যক্তির হাতে
অভিযোগ উঠেছে যে, আমির হোসেন নামে এক ব্যক্তির প্রতিষ্ঠিত একটি সিন্ডিকেট বিপুল সংখ্যক বনভূমি দখল করছে। দখলকৃত বন থেকে বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে চিংড়ি ঘের ও লবণ মাঠ তৈরি করা হচ্ছে। গোরকঘাটা রেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, সেই রেঞ্জে ৪২ হাজার ২৯৪ একর প্যারাবন রয়েছে।
তবে গত কয়েক দশকে কয়েক লাখ গাছ কেটে প্রায় আট হাজার একর বনভূমি দখল করে নেওয়া হয়েছে।
প্রাক্তন অভিযান এবং মামলার ক্ষেত্রে পরিবেশবাদীরা আইওয়াশ অভিযোগ জানাচ্ছেন
এর আগে গত মার্চ ও এপ্রিলে উপজেলা প্রশাসন ও যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ বনভূমি উদ্ধার করা হয়। তবে পরিবেশবাদীরা বলছেন, তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রশাসনের স্বাক্ষর দিয়ে একটি আইওয়াশ প্রক্রিয়া।
গোরকঘাটা বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মানোয়ার হোসেন বলেন, আগুনের বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, প্যারাবন ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে আগে থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নতুন করে আগুন দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।